হাজারো তরুণ অংশগ্রহণে শুরু হলো ‘কৃষি পদযাত্রা ২০১১’ : দেশের উন্নতির জন্য কৃষি সংস্কারের বিকল্প নেই - গণজমায়েত ও শোভাযাত্রায় বক্তারা
11
চ.নো.রিপোর্ট-
‘স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তির আহবান : খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চাই সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি’ এই শ্লেগানে ২৭ মার্চ রোববার দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে ‘গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল)-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে কৃষি পদযাত্রা ২০১১। ২০২১ সালের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবিতে সারা দেশ থেকে ২ হাজার তরুণ-তরুণী যাত্রা শুরু করেছে এবং লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ শেষে আগামী ২৯ মার্চ ২০১১ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কৃষি পদযাত্রাটি শেষ হবে।
পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিশেবে রোববার সকাল ১০টায় খুলনা শহীদ হাদিস পার্ক থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত 12বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের ৬৩ শতাংশ মানুষ এখনও গ্রামে বাস করে আর এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সরাসরি কৃষির উপর নির্ভরশীল। ১ কোটি ৮০ লাখ কৃষক আমাদের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দেয়। অথচ তারাই থাকে সবথেকে খারাপ অবস্থায়। দেশের উন্নতি হচ্ছে কিন্তু কৃষি ও কৃষকের প্রতিদিন অবনতি ঘটছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সামগ্রিক কৃষি সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা কৃষিশ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার, কৃষিশ্রমের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, কৃষকের জন্য ফসলের লাভজনক মূল্য, সার-বীজ-কীটনাশকের মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে নারীর ভ‚মিকার স্বীকৃতি প্রদান, উপক‚লীয় আবাদি জমিতে লোনাপানির চিংড়িঘের বন্ধ করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, লবণসহনশীল প্রযুক্তি সরবরাহ করা এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো সমন্বিত করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, দেশে কৃষির সাথে সংশিøষ্ট ২৬টি নীতি আছে। এগুলোর একটার সঙ্গে আরেকটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যেও সমন্বয়হীনতা আছে। তাঁরা এ নীতিগুলো সমন্বিত করা এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানান। সংসদ সদস্য নজরুল 13ইসলাম মঞ্জু বলেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে সামগ্রিক কৃষি সংস্কারের দাবি উত্থাপন করা হবে।
নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে অতিথি ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল সিংহ রায়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সম্পাদক এসএ রশীদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা দেলোয়ারউদ্দীন দিলু, ন্যাপ-এর জেলা নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনিরুল হক বাচ্চু, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, ইএফএডিএফ-এর নির্বাহী পরিচালক জিএম তৈয়বুর রহমান, সিডিপির শেখ আব্দুল জলীল, অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর মাহবুব আলম প্রিন্স, পরিবর্তন-খুলনার নাজমুল আযম ডেভিড, হিউম্যানিটিওয়াচ-এর শরিফুল ইসলাম সেলিম, নাসিম রহমান কিরন প্রমূখ।
শোভাযাত্রা ও সমাবেশ শেষে খুলনা, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর থেকে ৪৫ জন তরুণের একটি দল পদযাত্রার কাফেলার সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন।
কৃষি পদযাত্রা ২০১১