সামগ্রিক কৃষি সংস্কারের দাবিতে যশোর থেকে কৃষি পদযাত্রা শুরু : মানববন্ধন ও পথসভায় দাবি-জাতীয় পরিকল্পনায় কৃষিই সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া জরুরী
11
চ.নো.রিপোর্ট-
‘স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তির আহবান : খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চাই সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল)-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে কৃষি পদযাত্রা ২০১১। ২০২১ সালের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবিতে সারা দেশ থেকে ২ হাজার তরুণ-তরুণী যাত্রা শুরু করেছে এ পদযাত্রায়। এতে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ শেষে ২৯ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কৃষি পদযাত্রাটি শেষ হবে।
পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসাবে রোববার বিকাল ৪টায় যশোর দড়াটানা ভৈরব চত্বরে  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের ৬৩ শতাংশ মানুষ এখনও গ্রামে বাস করে আর এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সরাসরি কৃষির উপর নির্ভরশীল। ১ কোটি ৮০ লাখ কৃষক আমাদের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দেয়। অথচ তারাই থাকে সবথেকে খারাপ অবস্থায়। দেশের উন্নতি হচ্ছে কিন্তু কৃষি ও কৃষকের প্রতিদিন অবনতি ঘটছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সামগ্রিক কৃষি সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা কৃষিশ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার, কৃষিশ্রমের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, কৃষকের জন্য ফসলের লাভজনক মূল্য, সার-বীজ-কীটনাশকের মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে নারীর ভ‚মিকার স্বীকৃতি প্রদান, উপক‚লীয় আবাদি জমিতে নোনাপানির চিংড়িঘের বন্ধ করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, লবণসহনশীল প্রযুক্তি সরবরাহ করা এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো সমন্বিত করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, দেশে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট ২৬টি নীতি আছে। এগুলোর একটার সঙ্গে আরেকটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যেও সমন্বয়হীনতা আছে। তাঁরা এ নীতিগুলো সমন্বিত করা এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কমিটি গঠনের দাবি জানান।
12উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজনীতিবিদ এ্যাড. রবিউল আলম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সহ-সভাপতি জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইকরাম-উদ-দ্দৌলা - সভাপতি, প্রেস ক্লাব যশোর, মোহাম্মদ আলী স্বপন-সমাজ কল্যান ও প্রকল্প বিষয়ক সম্পাদক,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, এ্যাড. আবুল হোসেন-সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি,সিপিবি, হাসান মেহেদী - নির্বাহী পরিচালক, হিউম্যানিটি ওয়াচ, খুলনা, প্রকাশ চন্দ্র ধর- নির্বাহী পরিচালক, দীপশিখা সংস্থা, মনিরামপুর যশোর প্রমূখ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন নূরজালাল মাষ্টার - সভাপতি, ন্যাপ এবং অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন খন্দকার আজিজুল হক মনি- নির্বাহী পরিচালক, উলাসী সৃজনী সংঘ যশোর ও লীড সংগঠন, বিল ক্যাম্পেইন গ্রুপ।
জমায়েত শেষে শহরে এক পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ১০০ জন তরুণের একটি দল পদযাত্রার কাফেলার সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে যশোর ত্যাগ করেন।
কৃষি পদযাত্রা ২০১১