‘কৃষি পদযাত্রা ২০১১ : খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সামগ্রিক কৃষি নীতি সমন্বিত করার দাবিতে কুমিল্লায় গণজমায়েত ও শোভাযাত্রা
11
চ.নো.রিপোর্ট-
‘স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তির আহবান : খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চাই সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ২৭ মার্চ ২০১১ থেকে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেক ‘গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল)-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে কৃষি পদযাত্রা ২০১১। ২০২১ সালের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবিতে সারা দেশ থেকে ২ হাজার তরুণ-তরুণী যাত্রা শুরু করেছে এবং লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ শেষে ২৯ মাচর্ ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কৃষি পদযাত্রাটি শেষ হবে।
পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮ মার্চ সোমবার বিকাল ৪টায় কুমিল্লার ফৌজদারী চৌমুহনীতে এক গণজমায়েত, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  গণজমায়েতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান।  অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দর্পণ এর নির্বাহী পরিচালক ও সিএসআরএল এর সদস্য মোঃ মাহবুব মোর্শেদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুপ্র কুমিল্লা জেলার সহ-সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ নূরুর রহামন, ব্লাস্টের সমন্বয়কারি এডভোকেট শামিমা আক্তার জাহান, সাংবাদিক অশোক বড়ুয়া, সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেক সেলিম রেজা সৌরভ, খেলাঘরের সভাপতি আনিছুর রহমান, রিলায়েন্স কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হায়দার মজুমদার, সার্ড-এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার ফারুক, পিডস্ নির্বাহী পরিচালক ইকরাম রানা, আরএইচডিও’র নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহতাব. ইসলামিক টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ওমর ফারুকী তাপস, সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মাহবুব, সাপ্তাহিক নিরীক্ষণের নির্বাহী সম্পাদক জামাল উদ্দিন দামাল, দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার আরেফীন রুমেল, স্টাফ ফটো সাংবাদিক এন.কে রিপন, আদর মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সেলিম, ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: শাহআলম, ২য় আরবান প্রাইমারী প্রকল্পের সমন্বয়কারি কামরুল হাসান  প্রমুখ।  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দর্পণের প্রকল্প পরিচালক ফারহানা মরিয়ম।   
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের ৬৩ শতাংশ মানুষ এখনও গ্রামে বাস করে আর এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সরাসরি কৃষির উপর নির্ভরশীল। ১ কোটি ৮০ লাখ কৃষক আমাদের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দেয়। অথচ তারাই থাকে সব চেয়ে খারাপ অবস্থায়। দেশের উন্নতি হচ্ছে কিন্তু কৃষি ও কৃষকের প্রতিদিন অবনতি ঘটছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সামগ্রিক কৃষি সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা কৃষিশ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার, কৃষিশ্রমের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, কৃষকের জন্য ফসলের লাভজনক মূল্য, সার-বীজ-কীটনাশকের মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে নারীর ভ‚মিকার স্বীকৃতি প্রদান, উপক‚লীয় আবাদি জমিতে নোনাপানির চিংড়িঘের বন্ধ করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, লবণসহনশীল প্রযুক্তি সরবরাহ করা এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো সমন্বিত করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, দেশে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট ২৬টি নীতি আছে। এগুলোর একটার সঙ্গে আরেকটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যেও সমন্বয়হীনতা আছে। তাঁরা এ নীতিগুলো সমন্বিত করা এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানান।
গণ জমায়েত শেষে ট্রাকে করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠন সহযোগে এক বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা বের করা হয়। শোভা যাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন-ওস্তাদ মঞ্জিল আহমেদ, ফারজানা আফরোজ মৌসুমী, তানজিনা ফারহানা, সাবরিনা আফরোজা, তবলায় কামাল আহমেদ, ঢোল সত্য সাহা। অনুষ্ঠান শেষে সিএসআরএল এর পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য; আগামী ২৯ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পদযাত্রার কাফেলার সঙ্গে কুমিল্লার ৪০জন তরুণের একটি দল সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে কুমিল্লা ত্যাগ করবে।
কৃষি পদযাত্রা ২০১১