কৃষি সংক্রান্ত সব নীতিমালা সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করতে হবে : পদযাত্রার সমাপনী সমাবেশে বক্তারা
11
চলমান নোয়াখালী ডেস্ক-
খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে কৃষি পদযাত্রার সমাপনী সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের ৪৯ শতাংশ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সরাসরি কৃষিকাজে নিয়োজিত। অন্যরা কৃষির উপর নির্ভরশীল। অথচ কৃষকরা উৎপাদিত কৃষি পণ্যের যথাযথ মূল্য পায় না। দেশে কৃষি সংশ্লিষ্ট কমপক্ষে ২৬টি নীতি, আইন ও কৌশলপত্র রয়েছে। এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কৃষি ও কৃষক সংক্রান্ত সকল নীতিমালার সমন্বয় ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
12মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযানের (সিএসআরএল) উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে ২৭ মার্চ সাতক্ষীরা, টেকনাফ, পঞ্চগড় ও সুনামগঞ্জ থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ পদযাত্রায় দেশের ৩০টি জেলা শহরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করে সিএসআরএল।
সমাবেশে দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী পরিচালক ও সিএসআরএল-এর স্টিয়ারিং গ্রুপের সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৪০ বছরে দেশের যে উন্নতি হয়েছে তা মূলত কৃষিকে কেন্দ্র করে। দেশের খাদ্য সমস্যা থেকে উত্তরণে অর্জিত সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদানকৃষকের। অথচ কৃষক তার প্রাপ্য সম্মান ও পণ্যের প্রকৃত মূল্য পায় না। অধিকাংশ কৃষকের নিজের জমি নেই। ফলে তারা পিছিয়ে আছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষকদের উন্নয়নে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের মধ্যে কৃষকের সংখ্যাই বেশি। দেশের অর্থনীতিসহ সার্বিক উন্নয়নে কৃষকদের অবদান অগ্রগণ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি ও 13কৃষকদের উন্নয়নে আন্তরিক চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এখনো কৃষকের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আইনের শাসন, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের মোট খাদ্য চাহিদার ৮২ শতাংশ পূরণ করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এ অর্জনের দাবিদার কৃষকদের প্রতি পাঁচজনের চারজনই ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষি। অথচ গত ৪০ বছরেও এ ক্ষুদ্র কৃষকদের ভাগ্যের তেমন কোন উন্নতি হয়নি। তারা বলেন, আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শে নয়, দেশে কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে দেশজ ভূমি-বান্ধব পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক শাহ-ই আলম, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান আকন্দ, বিপস্নবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য নূর আহমেদ বকুল, কর্মজীবী নারীর সভাপতি শিরিন আক্তার, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জাতীয় কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, সিএসআরএল-এর সদস্য সচিব জিয়াউল হক মুক্তা প্রমুখ।
কৃষি পদযাত্রা ২০১১