বাইশ জুন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস : ধু ধু বালুচর থেকে সবুজ প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাস
11
রুদ্র মাসুদ-
আমরা যখন প্রথম ক্যাম্পাসে যাই তখন চারদিকে শুধু ধু ধু বালু চরের মতো। তখনো মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি। একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন আর এক তলার দুটি ছাত্রাবাসকে ক্যাম্পাসে দেখা যেতো দ্বীপের মতো। উপক‚লে প্রযুক্তি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছিলো নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ঘুরাঘুরির কোনো ছিলো না, বসার কোনো জায়গা ছিলো না- ২০০৬ সালের ২২ জুন যাত্রা শুরু করা আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্রমেই ল্যাব, পানি, বিদ্যুৎ, আবাসন আর ডাইনিংয়ের সমস্যা প্রকট হতে থাকে। বিপরীত দিকে একে একে পূর্ণতা পেতে থাকে নোবিপ্রবি। ফাঁকা ক্যাম্পাস পরিণত হতে থাকে সবুজ প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাসে।
বুধবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে সামনে রেখে এভাবেই সদ্য বিদায়ী ক্যাম্পাসের স্মৃতি  কাছে তুলে ধরেন নোবিপ্রবির ফিশারিজ ও মেরিন সায়েন্স বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র আসাদুজ্জামান। অরাজনৈতিক নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যে কোন দাবি দাওয়া নিয়ে সামনের কাতারে থাকা বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগে মাষ্টার্সের ছাত্র আসাদের মতে এখন যারা ভর্তি হচ্ছে তারাতো শুরু থেকেই অনেকটা পরিপূর্ণ ক্যাম্পাস পাবে। তবে অতৃপ্তি থাকবে প্রথম ব্যাচ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করতে পারলো না; সে জন্য।
এদিকে নোবিপ্রবি দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে জমকালো সব আয়োজন। বর্ণিল সাজে সাজানো হযেছে গোটা ক্যাম্পাস। নানা রঙের বাতি দিয়ে রাঙানো হবে রাতের ক্যাম্পাসকে। বর্ণ্যাঢ্য শোভাযাত্র বের হবে  ক্যাম্পাস থেকে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী পর্যন্ত। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। এসব নিয়ে ক্যাম্পাসকে সাজআর তাই উচ্ছাসের কমতি নেই কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) এর শেষ বর্ষের ছাত্রী মিমতিন নুরের। জানালেন, এবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হচ্ছে। ক্যাম্পাস থেকে ট্রাকে করে শোভাযাত্রায় অংশ নেবে ছাত্রছাত্রীরা। অন্যরকম মজা হবে।
নোবিপ্রবি সুত্রে জানা যায়, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল সৃষ্টির মানসে নোয়াখালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ২০০১ সালের ১৫ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা “নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১” জারি হয়। এই আইন কার্যকর হয় ২০০৩ এর ২৫ আগস্ট। নোয়াখালীর সোনাপুরের দক্ষিণে নোয়াখালী মৌজার 12১’শ একর জায়গা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ এর ২২ জুন। বর্তমানে নোবিপ্রবিতে দুইটি ফ্যাকাল্টিতে সাতটি বিভাগে বিএসসি (অনার্স), বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারি) এবং এমএস ডিগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। আরো পাঁচটি বিভাগ চালুর প্রস্তাবনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং , ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স, ফার্মেসী, এপ্লায়েড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইক্রোবায়োলজি, গণিত এবং ইংরেজী বিভাগে বিদেশীসহ বর্তমানে প্রায় ১৫’শ ছাত্রছাত্রী অধ্যায়নরত।
বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজট মুক্ত রাখতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে ক্লাশ শুরু, ক্লাশ টেস্ট, ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ, ফলাফল প্রকাশসহ নূতন বর্ষে ক্লাশ আরম্ভের বিষয়টি পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পানি, বিদ্যুৎ ও আবাসন সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক মানসম্পন্ন সাইবার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির সেবা পেতে সপ্তাহে এক দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীরা  এই সেন্টার ব্যবহার করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠার শুরুতেই এই নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের এবং  পরবর্তীতে অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর  যোগদান করেন বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সমস্যাকে আলিঙ্গন করেও ছাত্রছাত্রীরা যখন এখানে ভর্তি হয়েছে শুধুমাত্র অপরাজনীতির কলুষমুক্ত ক্যাম্পাসের কারণেই। কিন্তু প্রায়শই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর কিছু শিক্ষকের প্রশ্রয়ে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে মুষ্টিমেয় কিছু ছাত্র নিজেদের স্বার্থে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নোবিপ্রবি দিবস উপলক্ষে  ভাইস চ্যান্সেলর পদক ও সনদ প্রদান, রচনা প্রতিযোগীতার বিজয়দের মাঝে পুরস্কার ও সনদ প্রদান, আলোচনা সভা ও ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের বর্ধিতাংশের উদ্বোধন করা হবে। উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন স্থানীয় সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী, জহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যারয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শরিফ এনামুল কবীর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আলাউদ্দিন, বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. সিদ্দিকুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যলয় দিসবের আয়োজন নিয়ে উচ্ছাসিত নোবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী জানালেন, সব আয়োজন চুড়ান্ত।  ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই অপেক্ষা করছে আজকের দিনটির জন্য। রাতের বেলায় ক্যাম্পাসকে আকর্ষনীয় করতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।
13
ক্রীড়া ও সংস্কৃতির খবর