গোপালপুর গণহত্যা : খাল ভর্তি লাশ আর রক্তে লাল বর্ষায় টইটম্বুর খালের পানি
11
রুদ্র মাসুদ-
একাত্তরে নোয়াখালীতে সবচেয়ে বড় বর্বরোচিত গণহত্যা সংঘটিত হয় বেগমগঞ্জের গোপালপুর বাজারে। ১৯ আগষ্ট সকালে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগীতায় ৫৪জন নিরীহ জনসাধারণকে খালপাড়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে পাকিস্থানী আর্মিরা। হত্যাযজ্ঞ শেষে পাক আর্মি ও রাজাকাররা চলে যাওয়ার পর যার যার স্বজনরা তাদের লাশ নিয়ে যায়। যার মধ্যে ২৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। যাদের নামসহ স্বাধীনতার ১৭ বছর পর গোপালপুর বাজারে স্থাপিত হয় স্মৃতিস্তম্ভ। স্থানীয় জনতা ক্লাবের উদ্যোগে স্মৃতি স্তম্ভটিই এখন সেই র্ববরোচিত লোমহর্ষক গণহত্যার একমাত্র নিদর্শন।
চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর সড়কের বাংলাবাজার থেকে উত্তরে বেগমগঞ্জের উপজেলার গোপালপুর বাজার। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এই বাজার ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম রিক্রুটিং ও ট্রেণিং সেন্টার। সুবেদার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে সেখানে চলতো মুক্তিসেনাদের প্রশিক্ষন। তখনকার ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান (পরবর্তীকালে এমপি), হায়াত খান, ডা: আনিসুল ইসলাম, আব্দুল বাতেন, ইউপি সদস্য  নজীর আহম্মেদ মেম্বার, হাবিলদার জোবেদ আলী, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিম, এডভোকেট ফজল কবির, নৌবাহিনীর আব্দুল খালেক, আব্দুল নোমান, নুরুল আমিন চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন দুলাল, মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, জাকির হোসেন, আবু কায়েস মাহমুদসহ অনেকে তখন এই ট্রেণিং সেন্টারে প্রশিক্ষক এবং মুক্তিযুদ্ধকে স্থানীয়ভাবে সংগঠিত করা এবং যোদ্ধা সংগ্রহের কাজ করতেন এখান থেকে। সবাই একত্রে অবস্থান না করলেও পালাক্রমে এসব মুক্তিযোদ্ধা এখান থেকেই তাঁদের কর্মপরিকল্পনা মাফিক বিভিন্ন অপারেশনে যোগ দিতেন। স্থানীয় রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে এখবর চলে যায় পাকিস্থানী আর্মিদের কাছে।
বেগমগঞ্জ কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত পাকিস্থানী সেনা ক্যাম্প থেকে অনতিদূরে মুক্তিযোদ্ধাদের এই শক্ত ঘাটিতে আক্রমনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে পাক আর্মিরা। গোপালপুর আক্রমনের লক্ষ্যে স্থানীয় দালালদের নিয়োগ করে পাক আর্মিরা। এদিকে প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শোনা যেতো পাকিস্থানীরা আসছে। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে কিছুটা আতংক, উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯ আগষ্ট ভোরে পাকিস্থানী আর্মিদের বিশাল বহর অবস্থান নেয় বাংলাবাজারের সামছুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে সকাল সাড়ে সাতটা পৌনে আটটার দিকে গোপালপুর বাজারে প্রবেশ করে পাক আর্মি। বাজারে পুর্বপাশ দিয়ে একটি দল এবং পশ্চিম পাশ দিয়ে আরেকটি একটি দল প্রবেশ করে। তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে স্থানীয় রাজাকার নেছার, আব্দুল মতিন, বাতেন, আবু বকর ছিদ্দিক, ইসমাইল, মফিজ উল্যা। এসময় গোটা বাজার তারা ঘিরে ফেলে।
বিভিন্ন অপারেশনে যাওয়ার কারণে গোপালপুর বাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডা: আনিছসহ মাত্র কয়েকজন ছিলেন। তারপরও মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানীদের প্রতিরোধ করতে চেয়েছিলো। পাক আর্মি বাজারে আক্রমন করতে আসার খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপনে সহায়তাকারী মুসলিম লীগ নেতা মাহবুবুল হক চৌধুরী (নসা মিয়া) যে কোন ধরণের হত্যাযজ্ঞ এবং অগ্নিসংযোগ এড়াতে ভোরে বাজারে এসেই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সরে যেতে বলেন। পাশাপাশি বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকেও দ্রুত বাজার ত্যাগ করতে বলেন। ডাঃ আনিছসহ মুক্তিযোদ্ধরা বাজার থেকে সরে যাওয়ায় পাকিস্থানীরা পৌঁছে কোন মুক্তিযোদ্ধাকে পায়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয় পাকিস্থানী আর্মিরা। তখনো বাজারে দুই আড়াইশ লোক অবস্থান করছে।
সকাল আটটার দিকে মুসলিম লীগ নেতা নসা মিয়া পাকিস্থানী আর্মিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এখানে মুক্তিযোদ্ধরা থাকেন না এবং এখানে কোনো ট্রেণিং সেন্টারও নেই। তাঁর ধারণা ছিলো তিনি যেহেতু মুসলিম লীগ করেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তাঁর জানাশোনা চিলো তাঁর কথায় হয়তো পাক সেনারা মানুষজনের ওপর অত্যাচার, হত্যা কিংবা বাড়ি ঘরে আগুন দিবে না। কিন্তু রাজাকারদের ইন্ধন এবং প্ররোচনার কারণে নসা মিয়ার কথা কানেই তোলেনি আর্মিরা। পাকিস্থানী সেনা এবং রাজাকারা শুরু করে তল্লাসী। এসময় নসা মিয়াদের গদির (ব্যবসা প্রতিষ্ঠান)  পাশে একটি ঘর (কিছুক্ষণ পূর্বেও মুক্তিযোদ্ধারা ছিলো এখানে) থেকে গুলির খোসা এবং মোহাম্মদ উল্যার টেইলারিং দোকান থেকে একটি বাংলাদেশের পতাকা পেয়ে পাকিস্থানীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দোকান থেকে লোকজনকে ধরে এনে বর্তমানে ব্যাংকের পূর্বপাশের খালি জায়গায় জড়ো করতে থাকে। উন্মত্ত পাকি আর্মিরা এসময় ইউপি সদস্য দীন ইসলাম, ব্যবসায়ী ছিদ্দিক উল্যা, তাঁর দোকানের কর্মচারী হাবিব উল্যা, টেইলারিং দোকানের মালিক মোহাম্মদ উল্যা দর্জিকে বাজারের মাঝখানেই বেদড়ক পিটুনী দেয়। বাদ যায়নি নসা মিয়াও।
সকাল ১০টা নাগাদ জড়ো করা প্রায় আড়াই’শ লোকের মধ্য থেকে নসা মিয়াসহ ৫৬জনকে বাজারের পূর্বদিকের রাস্তায় খাল পাড়ে দাঁড় করায় এবং বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয় পাক আর্মি ও রাজাকাররা। নসা মিয়া তখন লাইনে দাঁড় করানো ৫৬জনের মধ্য থেকে তাঁদের মসজিদের ইমাম হাফেজ আজিজুর রহমান এবং পোষ্টম্যান আব্দুল মান্নানের জীবন ভিক্ষা চান পাক সেনাদের কাছে। নসা মিয়ার অনুরোধ রক্ষা করে এ’দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নসা মিয়ার রক্ষা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতার অপরাধে রাজাকারদের ইন্ধনে লাইনে নসা মিয়াসহ দাঁড় করানো বাকী ৫৪জনকে খালের দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়াতে বলে এবং একসাথে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। সৌভাগ্যক্রমে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়ই তখন একজন বেঁচে যায়। পাক সেনারা চলে যাওয়ার পর দুপুর ১২দিক থেকেই পর্যায়ক্রমে শহীদদের স্বজনেরা তাঁদের লাশ নিতে আসে। শহীদদের তাজা রক্তে লাল হয়ে যায় বর্ষায় টুইটুম্বুর খালের পানি। শহীদদের লাশ সমাহিত করা হয় স্ব স্ব শহীদের পারিবারিক কবরস্থানে। এজন্য অনেকের নাম পরিচয় তখন সনাক্ত করা যায়নি।
স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯ আগষ্ট শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও সেই মর্মস্তুদ হত্যাযজ্ঞের কোন স্মৃতি চিহ্ণ ছিলোনা গোপাল পুর বাজারে। ১৯৮৮ সালে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় জনতা ক্লাব। কাবের তখনকার সভাপতি রতন মাষ্টার খুঁজে খুঁজে সংগ্রহ করে গণহত্যায় শহীদ হওয়া ৫৪ জনের মধ্যে ২৪জনের নাম পরিচয়। যাদের নাম ঠিকানাসহ স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করা হয় ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সেই স্মৃতিস্তম্ভের স্মৃতি ফলকে ঠাই পাওয়া ২৪ শহীদগণ হচ্ছেন গোপালপুর চৌধুরী বাড়ির মাহবুবুল হক চৌধুরী (নসা মিয়া), তুলাচার গ্রামের দীন ইসলাম মেম্বার, হাবিব উল্যা, ইসমাইল মিয়া, সাহাদাপুর গ্রামের অহিদ উল্যা, মোহাম্মদ উল্যা, দুলাল মিয়া, আটিয়াকান্দি গ্রামের সামছুল হক মাষ্টার, মুজিব উল্যাহ, বশির উল্যাহ, মীর্জানগর গ্রামের আবুল কাসেম, আবু বকর ছিদ্দিক, দেবকালা গ্রামের হারিছ মিয়া, সিরাজউদ্দিন পুর গ্রামের ছিদ্দিক উল্যা, মহুল্যাপুর গ্রামের মন্তাজ মিয়া, নুর মোহাম্মদ, আব্দুল মান্নান, পানুয়াপাড়া গ্রামের মোবারক উল্যা, চাঁদকাশিমপুর গ্রামের মোহাম্মদ উল্যা দর্জি(টেইলারিং দোকানের মালিক), আমিরাবাদ গ্রামের আব্দুর রশিদ, বারাহীনগর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, হীরাপুর গ্রামের আব্দুল করিম এবং দশঘরিয়া গ্রামের ডাঃ মোহাম্মদ সুজায়েত উল্যা (ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী)।
সঠিক সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না থাকায় ১৯৮৮ সালে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভটিও পড়ে আছে অযত্ন অবহেলায়। তাই সম্প্রতি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা লকিয়ত উল্যাসহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষদের উদ্যোগে গণহত্যার স্থলে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে; এটি নির্মাণে সরকারি সহযোগীতা কতটুকু পাওয়া যাবে তা নিয়েও সংশয় স্থানীয় প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দের। মু্ক্তিযোদ্ধাদের দাবি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিবেকবর্জিত এই গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণের।
লাইনে দাঁড়ানোর পরও নসা মিয়ার অনুরোধে সেদিন বেঁচে যাওয়া সত্তরোর্ধ্ব হাফেজ আজিজুর রহমানের ভাষ্যমতে- এমনিতেই প্রতিদিন শোনা যেতো শুধু পাকিস্থানীরা আসছে, আসছে...। ১৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যখন গোপালপুর বাজারের দুই পাশ দিয়ে পাকিস্থানীরা আসছিলো তখন তাঁদের অগ্রভাগে ছিলো রাজাকার। বাজারের পশ্চিম প্রান্তের প্রাইমারি স্কুলের মাঠ পেরিয়ে যখন বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম তখন পদিপাড়ার রাজাকার নাজিম বলে ‘এই দাঁড়াও’। আমি দাঁড়াইনি, ইতোমধ্যে মানুষের জটলা বেঁধে গেলে আমি বলি ‘সবাই ভাগো’। মানুষজনকে চলে যেতে বলার কারণে আমাকে রাজাকাররা ধরে নিয়ে বাজারের মাঝখানে পাকিস্থানী সেনাদের কাছে তুলে দেয়। পাকসেনারা মনে করেছিলো আমি মুক্তিফৌজের কমান্ডার। তারা আমাকে চেক করে, এমন সময় দেখি কাপড়ের দোকান থেকে একটা ছেলেকে বের করে এনে অমানুষিক পিটুনী দেয়। এখানে পাকিস্থান সরকারের পক্ষে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতের বিপক্ষে একটা বক্তব্য দেয় পাক সেনা কমান্ডার। কিন্তু তারা আমাকে ছাড়ে না। বক্তৃতা শেষ হবার পর সারা বাজার থেকে রাজাকার আর পাক সেনারা ১৩০জনকে একত্রে জড়ো করে বর্তমানে ব্যাংকের পূর্ব পাশের খালি জায়গায়। সেখান থেকে আমাদেরকে নিয়ে যায় খাল পাড়ে। এসময় মাহবুবুল হক চৌধুরী (নসা মিয়া) এসে পাক সেনাদের অনুরোধ করে এখানে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই, এরা সবাই বাজারে খুছরা ব্যবসা করে, এরা নিরীহ জনসাধারণ। এঁদেরকে ছেড়ে দেন। এমন সময় বর্তমানে ব্যাংকের পূর্ব পাশের একটি কাপড় দোকান থেকে বাংলাদেশের পতাকা বের করে আনে কয়েকজন পাক সেনা। এতে কমান্ডারটা উত্তেজিত হয়ে নসা মিয়াকে মারধর করে এবং কাপড় দোকানদারের ওপর চালায় অমানুষিক নির্যতন।  
রাজাকার এবং পাক আর্মিরা এসময় বাজার তল্লাশী করে প্রায় আড়াইশজনকে জড়ো করে খালপাড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ৫৬জনকে বেছে লাইনে দাঁড় করায় খাল পাড়ে। নসা মিয়ার অনুরোধে আমাকে এবং পোষ্টম্যান আব্দুল মান্নানকে ছেড়ে দেয়। আমি যখন হেঁটে বাজার পার হচ্ছিলাম তখন দেখতে পাই লাইনে দাঁড়ানো ৫৪জনকে একসাথে ব্রাশফায়ার করে। এটি দেখে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। পরিচিত একজন কসাই আমাকে তুলে বাড়ি যেতে সহায়তা করে। ১২টার দিকে এসে দেখি খাল ভর্তি হয়ে আছে হতভাগ্য মানুষের লাশে। আর ভরা বর্ষায় পূর্ণ খালের পানি রক্তে লাল হয়ে আছে। খাল জুড়ে যেনো রক্তের বন্যা।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত হোসেন রানু বলেন, এই নৃশংস বর্বরোচিত ঘটনার সাথে জড়িতরা এখনো11 দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। মানুষজন তাদেরকে চিনে। এদের বিচার হওয়া উচিত। পাশাপাশি গণহত্যার স্থলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা পূর্ণাঙ্গতা পেতে রাষ্ট্রীয় সহযোগীতা প্রয়োজন।
গণহত্যার শিকার গোপালপুর বাজারের টেইলারিং দোকানের মালিক মোহাম্মদ উল্যা দর্জির ছেলে বর্তমানে জনতা কাবের আহবায়ক আবুল কালা আজাদ সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন- আমি তখন চৌমুহনী কলেজের ছাত্র। ভোর থেকেই যে পাক আর্মি বাজারে আসার খবর ছড়িয়ে পড়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধারা বাজার ত্যাগ করেছে সে খবর আমি জানতাম না। সকাল ৭টার দিকে বাজারে আসার পর বাবা আমাকে বকুনি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরেতো পাক আর্মি এসে গণহত্যার ঘটনা ঘটায়। বাড়ি থেকে গণহত্যার খবর শুনেছি কিন্তু  বাবা মারা গেছে সেটি আমরা জানতামনা। বাবা বাংলাদেশের পতাকা তৈরী করেছিলো এবং আমাদের দোকানেই সেটা পাওয়া যায়। রাজাকার ইসমাইল তখন আবার বাবাকে দেখিয়ে দিয়েছিলো। খালের মধ্যে লাশ দেখে আমার এক জেঠা বাবাকে সনাক্ত করে। বিকালে আমরা লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি।
জনতা কাবের উদ্যোগে ১৯৮৮ সালে গণহত্যার শিকার শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। কিন্তু এতো বছেরেও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সেদিনের গণহত্যা এবং শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষ গণহত্যারস্থল খালপাড়ে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোকতায় করার দাবি করে তিনি বলেন- না হয় এই মহতি উদ্যোগও একদিন ভাটা পড়ে যাবে অর্থের অভাবে।

লেখক-সংবাদিক
editor@chalomannoakhali.com
তথ্যসুত্র
-    মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস (২য় খন্ড)
-    রবিউল হোসেন কচি সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধে নোয়াখালী স্মারকগ্রন্থ।