নোয়াখালীর শাহাজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ শুরু, গ্যাস পাবে নোয়াখালীবাসী : কম সময়ে গ্যাস সরবরাহ দেশে এই প্রথম
11
রুদ্র মাসুদ-
গ্যাস প্রাপ্তির সাত মাস এবং কূপ খননের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের সূচনা করেন গ্যাস ক্ষেত্রের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম। এ ক্ষেত্র থেকে  প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রীডে যোগ হবে। কোন ধরণের কারিগরি ত্রুটি না দেখা দিলে এ সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম উপলক্ষে শনিবার গ্যাস ক্ষেত্র এলাকায় স্থানীয় সিরাজপুর ইউপিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনগণ তা দেখতে আসে। স্থানীয়দের দাবি এ গ্যাস যেনো নোয়াখালীবাসী ব্যবহার করতে পারে এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে যাতে এ গ্যাস কাজে লাগানো হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড- বাপেক্স’র শাহজাদপুর-সুন্দলপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে অনুসন্ধান কূপ খনন কাজ শুরু হবার পর গত বছরের ১৭ আগষ্ট এ গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়  এবং একই দিন পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস প্রজ্বলন করা হয়। পরবর্তীতে এ ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কূপখননসহ কারিগরি প্রকৃয়া সম্পন্ন হয় অক্টোবরে। এখন আমরা গ্যাস উৎপাদনে যেতে পারছি। এ গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহের জন্য ১৪ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপন করে বাখরাবাদ গ্যাস সিষ্টেমস্ লিঃ।
তিনি বলেন, নিজস্ব দেশীয় প্রযুক্তি এবং নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে কূপ খননের পর এই প্রথম মাত্র ৫ মাসের মাথায় এ গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। যা ইতোপূর্বে কোনো দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানীর পক্ষেও তা সম্ভব হয়নি।
এ গ্যাস ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আব্দুল হালিম বলেন, ইতোমধ্যে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে এ গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ ৫০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিদিন এ গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রীডে ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকা থেকে সোয়া কিলোমিটার দূরত্বে কোম্পনীগঞ্জ উপজেলার হাবিব পুরে দ্বিতীয় ক‚প খনন কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। এটি খনন কাজ সমাপ্ত হলে রিজার্ভের পরিমান আরো বাড়বে।
সিরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরনবী চৌধুরী বলেন, যেহেতু গ্যাস পাওয়া গেছে এবং গ্যাস সরবরাহও শুরু হলো তাই এ গ্যাস ক্ষেত্রের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাঁদেরকে যেনো বাজারমূল্যে জমির দাম দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী দ্রæত এ অঞ্চলের মানুষকে গ্যাস ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করার দাবি জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম সমকালকে বলেন, যদিও এ গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ করা হবে তা স্বত্তে¡ও নোয়াখালীর এই গ্যাস নোয়াখালবাসীই ব্যবহার করবে। যেটা আগে জাতীয় গ্রীড থেকে নোয়াখালীতে আসতো সেটার সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হবে।
শাহজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাস ফিল্ড সুত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২২ মে একনেকে ৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সুন্দলপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর কূপ খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ  প্রতিমন্ত্রী বিগ্রেডিয়ার (জেনারেল) মোহাম্মদ এনামুল হক এমপি।
নানা প্রতিকূল অবস্থায় গত ১১ মার্চ ৩ হাজার ৩২৭ মিটার গভীরতায় ক‚প খননের কাজ সমাপ্ত হয়। খননকৃত কূপকে ৩ হাজার ১৯৬ থেকে ৩  হাজার ২২০ মিটার, ৩ হাজার ১১৮ থেকে ৩ হাজার ১২১ মিটার এবং ১ হাজার ৩৯৯ থেকে ১ হাজার ৪০৪ দশমিক ৫ মিটার এই তিনটি জোনে ভাগ করা হয়। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন দুটি জোনে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ গতবছরের ১৬ আগস্ট ভূস্তরের সবচেয়ে কাছাকাছি (১ হাজার ৩৯৯ থেকে ১ হাজার ৪০৪ দশমিক ৫ মিটার গভীরতা) জোনটি পরীক্ষার জন্য ছিদ্র করা হলে ১৭ আগস্ট সকালে গ্যাস নির্গমন হতে শুরু করে। অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু হবার নয় মাসের মাথায় গ্যাসের সন্ধান মিলে সুন্দলপুর গ্যাস ফিল্ডে। ১৭ আগষ্ট সকাল ৯টায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় গ্যাস পোড়ানোর কাজ ।
গ্যাস আবিস্কারের পাঁচ দিনের মাথায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামের এই গ্যাস ক্ষেত্র পরিদর্শণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা এবং জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ  প্রতিমন্ত্রী। তখন স্থানীয় জনগণ এই গ্যাস ফিল্ডের নাম শাহজাদপুর গ্রামের নামে নামকরণের দাবি জানলে পরবর্তীতে এই গ্যাস ফিল্ডের নামকরণ করা হয় শাহজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাস ফিল্ড।
কৃষি ও অর্থনীতি