ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার ৫ বছর পর অবশেষে চৌমুহনীতে পৌরসভার দুই বহুতল বিপনী বিতান পরিত্যক্ত ঘোষণা : সাভার ট্র্যাজেডির পর টনক নড়লো পৌর কর্তৃপক্ষের !
11
রুদ্র মাসুদ-

ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার ৫ বছর পর অবশেষে পৌরসভার দুটি বহুতল বিপনী বিতানকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীতে। সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসের পর টনক নড়ে চৌমুহনী পৌর কর্তৃপক্ষের। মঙ্গলবার পৌর মেয়র মামুনুর রশিদ কিরন সরেজমিনে চৌমুহনীর পৌর বিপনী বিতান ও পৌর সুপার মার্কেট পরিদর্শন করে দুটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদেরকে এক সাপ্তাহের মধ্যে দোকান ছাড়ার অনুরোধ করেন।
এর আগে সোমবার পৌর পরিষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিপনী বিতান দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা এবং ভেঙ্গে পুনরায় বহুতল মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে; স্বল্প সময়ে দোকান গুটিয়ে অন্যত্র যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে গেলে ব্যবসায়ী ও চৌমুহনী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে নির্মিত হয় ৩ তলা বিশিষ্ট পৌর বিপনী বিতান এবং ১৯৮৭ সালে নির্মিত হয় ৪ তলা বিশিষ্ট পৌর সুপার মার্কেট। দুটি মার্কেটে রয়েছে ৩ শতাধিক দোকান পাঠ ও  অফিস।
নিম্নমানের নির্মাণ কাজের কারণে প্রায় ৫ বছর পূর্বেই মার্কেট দুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পলেস্তারা খসে পড়ে ও পিলারে এবং দেয়ালে ফাটল ধরে। বিপনী বিতান থেকে ইতোমধ্যে দুটি ব্যাংক তাদের কার্যক্রম12 গুটিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করে। তারপরও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ভবন দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা কিংবা ভাঙার উদ্যোগ নেয়নি। যার ফলে ঝুঁকি নিয়েই দোকানীরা ব্যবসা করে আসছেন।
এরই মধ্যে গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসের পর এনিয়ে শুরু হয় তোড়জোড়। সোমবার পৌর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয় ভবন দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা এবং এক সাপ্তাহের মধ্যে ব্যবসায়ীদেরকে দোকান ছেড়ে দিয়ে সিলগালা করার।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মাত্র এক সাপ্তাহের মধ্যে একদিকে যেমন অন্যত্র দোকান পাওয়া দুস্কর তেমনি এই মালামাল গুলো কোথায় নিয়ে রাখবেন তারা এনিয়েই এখন সবাই চিন্তিত। ব্যবসায়ীরা বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সাথে বসবেন বলেও জানা গেছে।
ভবন দুটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিৎ ছিলো স্বীকার করে চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র মামুনুর রশিদ কিরন বলেন, কি কারণে এতো দিন হয়নি তা বিবেচ্য বিষয় নয়। এখন পরিষদে  সিদ্ধান্ত হয়েছে, ব্যবসায়ীদেরও বলেছি দোকান ছেড়ে দিতে। দুই মাসের মধ্যে পুনরায় মার্কেটের কাজ শুরু হবে। স্ব স্ব পজিশনে ব্যবসায়ীরা দোকান পাবেন। ঝুঁকি নিয়েতো আর ব্যবসা চলে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উলেøখ্য, ব্যক্তিগত মালিকানায় চৌমুহনীতে আরো পুরাতন ভবন থাকলেও সেগুলোতে ফাটল ধরেনি। নিম্নমানের নির্মাণ কাজের কারণেই সরকারি ভবনে এমন পরিস্থিতি হয়।
কৃষি ও অর্থনীতি