সুবর্ণচরে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
11
আবুল বাসার, সুবর্ণচর, ০১ জানুয়ারি ২০১৪
নোয়াখালীর শস্যভান্ডার হিসাবে পরিচিত সুবর্ণচরে এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সময়মত বীজ পাওয়ায় এবং সার ও ঔষধ এবং জমিতে প্রয়োগ করাতে এই বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষকদের অভিমত। তাই; আশাতীত ফলন পেয়ে উপজেলার কৃষকের মুখেও হাসি ফুটেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণচরের শতকরা প্রায় ৯০ভাগ লোক কোন না কোন ভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। সদ্য সমাপ্ত আমন মওসুমে উপজেলার কৃষকরা বিভিন্ন জাতের আমন ধানের চাষ করেন।
এবছর  প্রায় ৩৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১ লাখ ২০ হাজার মে. টন ধানের। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার সুবর্ণচরে ১ লাখ ৩২ হাজার মে. টন ধান উৎপাদন হয়েছে।
উপজেলার চরজুবলী গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন (৩৮) চলমান নোয়াখালীকে জানান, এক একর জমিতে আমন ধান আবাদ করে ৭০ মন ধান পেয়েছে। অনূকুল আবহাওয়ার কারণেই এবছর ধানের ফলন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক কৃষক। আশাতীত ফলনে তাই তাঁর খুশিরও যেনো শেষ নেই।
রবি ফসল ফলাতে হবে তাই জমিতে তাই জমিতেই ধানের স্তুপ (পারা) দিয়েছেন কৃষক মফিজ উদ্দিন। রবি ফসল ফলানো শেষ হলে তিনি ধান মাড়াই করবেন। সেই স্তুপ থেকে এক গোঁছা ধান নিয়েই হেঁসে জানালেন তাঁর জমিতে বাম্পার ফলনের কথা। মফিজের মতোই সুবর্ণচরের কৃষকরা রবি ফসল ফলাতে ব্যস্ততার কারণে জমিমে জমিতে কেটে আনা ধানের স্তপ দিয়ে রেখেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায় ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মাঝেও খুশির শেষ নেই। কৃষকরা বলছেন ফলন খুবই ভালো। তবে; ধান চাষের সময় অধিক মূল্যে বীজ, সার ও ঔষধ এবং লেবার খাটিয়ে চাষ করেন, কিন্তু ফসলের নায্য মূল্য পাওয়া যায়না। এবারও যদি ন্যায্যমূল্য পাওয়া না যায় তাহলে তাদের মুখে আর সে হাসি থাকবে না।
কৃষকদের মতে -স্বল্পমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক সরবরাহ ও বিনা সুদে অধিক ঋণ দেওয়া হয় তাহলে আরও অধিক ফসল উৎপাদন করতে কৃষকগণ উৎসাহ পাবে।
সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম চলমান নোয়াখালীকে জানান, এবছর যে ফলন হয়ে তা উৎপাদনের জন্য অনন্য রেকর্ড। তিনি মনে করেন এই উপজেলাকে যদি সেচ প্রকল্পের আওতায় আনা যায়, তাহলে আরও অধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এবং কৃষক অধিক লাভবান হবেন।
কৃষি ও অর্থনীতি