সুবর্ণচরে রবি শষ্য আবাদে ব্যস্ত কৃষক
11
আবুল বাসার, সুবর্ণচর
জেলা শষ্য ভান্ডারখ্যত সুবর্ণচরে রবি শষ্যের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর জমি তৈরী ও বীজ বপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা । কৃষকের ব্যস্ততা অন্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি। আবাদি কৃষি পণ্যের মধ্যে অন্যতম হলো সয়াবিন, চীনা বাদাম, তরমুজ, মরিচ, মুগডাল, খেসারির ডাল, কলাই, মশারির ডাল ও ঢেড়স অন্যতম।
সরজেমিনে গিয়ে দেখা মিললো কৃষকের সেই উৎসাহ আর ব্যস্ততার চিত্র। বিগত বছরের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অধিক ফসল উৎপাদনে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা অবদি ফসলের জমিতে কৃষকের এই ব্যস্ততা চোখে পড়ে।
সুবর্ণচরে কৃষক আলা উদ্দিন আলো মাঝী, কামাল উদ্দিন, লেদু মেম্বার, বাচ্চু মিয়া, দুলাল মিয়া, কাইয়ূম মাঝী, আবদুর রাজ্জাক, ভূমিহীন নেতা আবুল কালাম সফি সহ অনেকের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, আমন মৌসুমের তুলনাই রবি শষ্য মৌসুমে রবি শষ্য চাষ করলে কয়েক গুন বেশি লাভবান হওয়া যায়। যার দরুন কৃষকগণ রবি শষ্য চাষে আগের তুলনাই কয়েক গুন বেশি এগিয়ে এসেছে। কৃষকদের দাবি বিনা সুদে কৃষি ঋণ, স্বল্পমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও পানি সেচের ব্যবস্থা করলে আরও উৎসাহ পাবে।
কৃষক আলা উদ্দিন জানান, ৫ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেন তিনি । এতে তাঁর খরছ হবে এক লাখ টাকার কিছু বেশী। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে তিনি পাঁচ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রয় করতে পারবেন বলে জানালেন আশাবাদী এই কৃষক।
একই কথা বলেন সয়াবিন চাষী ৫নং চর জুবলী ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের লেদু মেম্বার। তিনি ৮একর জমিতে সয়াবিনের চাষ করেন এতে তার খরচ পড়ে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা ফলন ভাল হলে তিনি সাত লক্ষ টাকার সয়াবিন উৎপাদন হবে বলে যানান।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে উপজেলার ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের রবি শষ্যের চাষ করতে যাচ্ছে। তার মধ্যে সয়াবিন ৯ হাজার ৪শ হেক্টর, তরমুজ ২৩শত হেক্টর, চীনা বাদাম ১৫শত হেক্টর মরিচ ৮শত হেক্টর মোগডাল ৬শত হেক্টর, খেসারির ডাল ৪হাজার হেক্টর, ঢেড়স ৮শত হেক্টর, কলায় ২শত হেক্টর, মশারির ডাল ১শত হেক্টর, মিষ্টি আলো ৩শত হেক্টর ও অন্যান্য সাক-সবজি ৪শত হেক্টর। বর্তমানে মাঠে খেসারির বাম্পার ফলন দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আমিরুল ইসলাম চলমান নোয়াখালীকে জানান, উপজেলার কৃষি জমির মাটি খুবই উর্বর, সঠিক সময়ে সরকারি সহযোগিতা পেলে রবি শষ্যে চাষে আরো উৎসাহিত হবেন কৃষকরার। কৃষির দিক থেকে আরো স্বর্ণিভর করতে হলে সেচ  প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কৃষি ও অর্থনীতি