সম্পাদকীয় : নামকরণের রাজনীতি নয়, উন্নয়ন চাই
নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে সাবেক স্পীকার, সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি “আব্দুুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালী” নামকরণ করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রানালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নাম পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। কিন্তু বিষয়টি থেকে যায় সবার অগোচরে, শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোই বিষয়টি জানতেন। একমাস পর গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন। যা চলমান নোয়াখালীর গত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
নামকরণ পরিবর্তনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেনো এভাবে আড়ালে-আবঢালে করা হলো। কিংবা নাম পরিবর্তনের পরও বিষয়টি নিয়ে এতো রাখঢাক করার কারণে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা কৌতুহল এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায় সরকারের সময়ে দেশের আরো ৫টি মেডিকেল কলেজের সাথে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা পায়। যার পুরোভাগে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন উ আহমেদ। এর পেছনে মইন উ আহমেদের অনুজ মিনজাহ আহমেদ জাবেদের নিয়োজিত থাকার বিষয়টিও নোয়াখালীবাসী অবগত আছেন।
২০১৩ সালের জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হিসাবেই। মনে রাখতে হবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলো কলেজটি ব্যবস্থাপনা কমিটি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাতে সায় দেননি। তাই সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ নামেই বহাল আছে। তাহলে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন কেনো জরুরী হয়ে পড়লো। অথচ কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ৫’শ শয্যার হাসপতাল নির্মাণ, কোয়ার্টার নির্মাণসহ বেশীরভাগ অবকাঠামো নির্মাণই এখনো বাকী। সেদিকে খেয়াল নেই দলকানা চিকিৎসক নেতা ও কলেজ প্রশাসনের। রাজনীতিকে হাতিয়ার করে বরেণ্য রাজনীতিবিদ নোয়াখালীর কৃতি সন্তান মরহুম আব্দুল মালেক উকিলকে টেনে আনা হলো নামকরণের সাথে। এটি এখন সরকারি সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- নামকরণ পরিবর্তনে কেনো স্বতস্ফূর্ততা নেই। এটি কেনো অগোচরে করা হলো ? নামকরণ নিয়ে রাজনীতি চাই না। মেডিকেল কলেজের সার্বিক উন্নয়ন চাই। কারণ বেগমগঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পেছনে শুধুমাত্র চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়ালেখাই নয়। ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর এই তিনজেলার সাধারণ মানুষের আধুনিক উন্নত চিকিৎসা প্রাপ্তির বিষয়টিও জড়িত।
আমরা আশাকরি যারা নামকরণ পবির্তনে নেপথ্যে সক্রিয় থেকেছেন তাঁরা তাদের সামর্থ্য প্রমানের জন্য দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণকাজ শুরু করে দেখাতে পারবেন। আমরা রাজনীতি চাই না, উন্নয়ন চাই।