ব্রুকলীনে বাংলার গান : বাঙালী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের মাঝে
11
রুদ্র মাসুদ::
নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশের মধ্যদিয়ে প্রতিটি জাতি এবং দেশের মানুষ নিজেদের পরিচিত করে বহি:বিশে^। প্রবাস জীবনে বাঙালীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। সাহিত্য, সংগীত, আচার, অনুষ্ঠান, রীতিসমূহ চর্চার মধ্যদিয়ে নিইউয়র্কে বাঙালী কমিউনিটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সংস্কৃতির ঐতিহ্য লালন করে আসছে। পাশাপাশি নিউইয়র্কে জন্মনেওয়া কিংবা খুব ছোট্ট বয়সে পিতা-মাতার সাথে নিউইয়র্কে চলে আশা নতুন প্রজন্মের সাথে দেশীয় সংস্কৃতির নিবিড় যোগসূত্রও জরুরী। জাতিসত্বার বিকাশে তাই বাঙালী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের মাঝে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলীনের এভিনিউ সি এবং ইস্ট সেকেন্ড স্ট্রীটে অবস্থিত পিএস ১৭৯ বিদ্যালয় মিলনায়তনে ‘ব্রুকলীনে বাংলার গান’ উৎসব আয়োজনের উদ্দেশ্য এভাবেই তুলে ধরেন উৎসবের মূখ্য আয়োজক নুরুল আমিন বাবুসহ অতিথিবৃন্দ। 13
সামছুন্নাহার নি¤িœর সঞ্চালনায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা উৎসবে দেশের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী, নিউইয়র্ক প্রবাসী জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী শাহ-মাহবুব, রুখসানা মীর্জা, কৃষ্ণা তিথি, শামীম সিদ্দিকী, রনো নেওয়াজ, লীনা, সুইটি প্রমুখ।
উৎসবে সংক্ষিপ্তভাবে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক খায়ের, বাঙালী কমিউনিটির পরিচিত মুখ শাহনেওয়াজ, উৎসবের দুই যুগ্ম আহবায়ক মঈনুল আলম, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকদের বেশীরভাগই ছিলেন নোয়াখালীর বাসিন্দা। আর তাই শাহ মাহবুবের গান পরিবেশনের সময় তাঁর কন্ঠে ‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী, আমরা নোয়াখাইল্যারে...’ গানের সাথে দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠে মিলনায়তন।
একইসাথে কৃষ্ণা তিথির পরিবেশনার সময় ‘মধু হই হই, আঁরে বিষ হাওয়াইলা’ গানের সাথে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষত সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের মাঝে সাড়া পড়ে।
রুখসানা মীর্জার কন্ঠে ‘সাম্পানওয়ালা’, বন্ধু তিন দিনসহ জনপ্রিয় গান পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শকদের। একইসাথে শামীম সিদ্দিকী, রনো নেওয়াজ, লীনা ও সুইটির কন্ঠে আঞ্চলিক ফোক, লালন, বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় গান, ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানগুলো মাতিয়ে রাখে দর্শকদের।
12সবশেষে সেলিম চৌধুরী পরিবেশন করেন ‘চাঁদনী পসরে কে আমারে স্মরণ করে’, হাসন রাজার বিখ্যাত গান ‘লোকে বলে বলেরে ঘর-বাড়ি ভালা নাই আমার’ এবং ‘আইজ পাশা খেলবোরে শ্যাম’।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই উৎসবে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদে দর্শক সবার নজর কাড়ে। একইসাথে উৎসবে বক্তৃতাবাজী না থাকায় দর্শকরা গান উপভোগ করেন।
রাত ১০টায় উৎসবে আগত দর্শক, অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পী, মিউজিশিয়ান এবং সাউন্ড টেকনেশিয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিবছর গ্রীস্মে নিয়মিতভাবে এই ‘ব্রুকলীনে বাংলার গান’ উৎসব আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন নুরুল আমিন বাবু।
প্রসঙ্গত : গ্রীস্মের এই সময়ে পুরো নিউইয়র্কজুড়ে বাঙালী কমিউিনিটি জুড়ে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সমিতিসহ নানা সংগঠনের উদ্যোগে মেলা, উৎসবসহ নানা আয়োজনে সরগরম থাকে। এই ধারাবাহিকতায় ‘ব্রুকলীনে বাংলার গান’ উৎসবের আয়োজন করেন একদল যুব-তরুন সোসাইটি একটিভিস্ট।
15
কর্মসূচী/অনুষ্ঠান ও প্রবাসের খবর