লক্ষ্মীপুরে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ , দুর্ভোগে বাস যাত্রীরা
11
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ  ভাড়া আদায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অধিক ভাড়া প্রদান করেও যথা সময়ে গাড়ীর টিকেট না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন ঢাকা-চট্টগ্রামসহ শহরমুখী যাত্রীরা। অপরদিকে শহরমুখী যাত্রীদের ঘিরেই দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ফেরি হাট এবং জেলার বিভিন্ন বাস স্টেশনগুলো এখন কর্মস্থলমুখী মানুষের স্রোতে  বেসামাল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনও লক্ষ্মীপুর থেকে কর্মমুখীসহ শহরমুখী ফিরছেন হাজারও হাজার যাত্রী থাকে। এর মধ্যে অনেক কর্মজীবী এবং তরুণরা অপেক্ষাকৃত নির্ঝঞ্ঝাটে পৌঁছার লক্ষ্যে চাঁদপুর হয়ে নৌ রুটে ঢাকায় রওয়ানা হয়েছেন। শহরমুখী যাত্রীদের মধ্যে ভোলা থেকে আশা লক্ষ্মীপুর রুটে দেখা গেছে যানবাহনের অত্যধিক চাপ।
রায়পুর থেকে ঢাকার বাস যাত্রী ফারজান বেগম জানান, লক্ষ্মীপুরে হয়ে যেতে নৌ ও রেল পথের যাতায়েতের ব্যবস্থা নেই। আর এই সুযোগে যাত্রীদের জিম্মি করে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর থেকে ঢাকাগামী ইকোনো পরিবহন, ঢাকা এক্রপ্রেস, গ্রামীণ পরিবহন, জোনাকী পরিবহন ও এসিবাস রয়েল পরিবহন সরকার কর্তৃক ভাড়া চেয়ে দ্বিগুণ হারে বাস ভাড়া আদায় করছে। ইকোনা পরিবহন ও ঢাকা এক্্রপ্রেস ৩৬ সিটের কথা বলে ৫৫০ টাকা করে বাস ভাড়া নিচ্ছে। আর গ্রামীণ পরিবহন ,জোনাকী পরিবহন ৫২ সিটের গাড়ি ৫০০ টাকা করে বাস ভাড়া নিচ্ছেন, এসি বাস রয়েল এখন ৫০০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন।
কথা হয় ঢাকা বাস যাত্রী জিয়ার সাথে, তিনি যাচ্ছেন ঢাকায় কিনেছেন জোনাকী কাউন্টারের টিকেট তার কাছ থেকে নিয়েছেন ৫০০ টাকা করে।তার দুদিন আগে তাকে টিকেট নিতে হয়েছে। তিনি আরো জানান,যাত্রীদের জিম্মি করে শহরমুখী বাসগুলো দ্বিগুণ হারে বাস ভাড়া আদায় করছেন।
কথা হয় আরেক যাত্রী রবিনের সাথে তিনি যাবেন ঢাকায়,তাই তিনি ঢাকা এক্য্রপ্রেস এর টিকেট নিয়েছেন ২টি ৫৫০ টাকা করে টিকেট ক্রয় করেছেন। টিকেট পেতে বামনী থেকে তাকে দুইদিন আসতে হয়েছে রায়পুরে তার টিকেট নিশ্চিত হয় তার। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, বাস কাউন্টার ও র্টামিনালে সরকারের র্নিধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙ্গানোর আগে ছিল। থাকলে যাত্রীরা দ্বিগুন ভাড়া দিত না।
রয়েল কাউন্টারে বসা ঢাকাগামী যাত্রী লিলি বেগম জানান, গত ২দিন আগে ৭ শত টাকা করে দুটি টিকেট কিনেছেন তিনি। এর আগে এ টিকেটের জন্য তিনি তিন বার কেরোয়া থেকে লোক পাঠাতে হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদ আনন্দের হলে কষ্ট হচেছ যেতে।
রায়পুর-ঢাকা রুটের এসি বাস রয়েল চালক কামাল জানান, কি আর করা রায়পুর থেকে ঢাকা আসা যাওয়ায় তাদের খরচ হয় ১৪ হাজার টাকা। ঢাকা থেকে আসতে হয় ২/৩ জন যাত্রী নিয়ে । তাই তারা খরচ তুলতে ঢাকা মুখী যাত্রীদের নিকট থেকে ভাড়া বেশি নিচ্ছেন।
ভোলা থেকে আসা চট্রগ্রাম শহরমুখী যাত্রী কহিনুর বেগম, আমেনা বেগমসহ কয়েকজন জানান, ভোলায় বাসের টিকেট না পাওয়ায় তারা ভোলা থেকে তারা লঞ্চযোগে মজুচৌধুরীর ঘাট হয়ে লক্ষ্মীপুরে এসে পৌছান। কিন্তুঅগ্রিম টিকেট ক্রয় করতে পারছেন এমনকি শহরে যাতায়তে পর্যাপ্ত পরিমাণে যানবাহন না থাকায় টিকেট না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেন তাদের।
দেখা গেছে,অধিক ভাড়া নিয়ে চট্রগ্রাম শহর মুখী কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস আসন সংকটে ছাদে তুলে যাচ্ছেন।
মজুচৌধুরীর ঘাট ইজারাদার ও জেলা পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন জানান,এই ঘাটে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের চাপ অনেকটাই বেশি। তবে ঘাটে যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহনের সংকট থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা,চট্টগ্রাম রওনা হচ্ছেন অনেকে। তাছাড়া গণপরিবহন গুলো ঈদের পর থেকে এখনও অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে তারা।
রায়পুর শহরের ব্যবসায়ী ফয়সাল জানান,রায়পুর-লক্ষ্মীপুরের যাত্রীরা রামগতি, কমলনগর, রামগঞ্জ এবং লক্ষ্মীপুর থেকে নিয়মিত পরিবহনে ঢাকা, চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছেন। তাই বাস স্টেশনগুলো এখন লোকেলোকারন্য কিন্তু প্রয়োজনের তুলনা পরিবহন কম এবং বেশি ভাড়া আদায় করছেন বাস মালিকরা।
ঢাকা এক্সপ্রেস লক্ষ্মীপুর র্টামিনালের ম্যানাজার জাহাঙ্গীর জানান, বাসমালিক সমিতির র্নিধারিত ৪০০ টাকার চেয়ে বেশি মাত্র ১৫০ টাকা করে বেশি নিচ্ছিন তারা। কারণ ঢাকা থেকে এখন বাস ৫-৬ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে আসতে পারেন না।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আব্দুল রশিদ জানান,যাত্রীদের নিকট অতিনিক্ত ভাড়া টাকা গ্রহনের অভিযোগ টি সঠিক। এ জন্য ভ্রাম্যমান আদালতে মাধ্যমে কিছুদিন আগে রয়েল পরিবহন ও রোববার সদর উপজেলায় দুটি শাহী পরিবহনকে অর্থদন্ড করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া বাস কোম্পানির লোকজনদের ডেকে সর্তক করে দেওয়া হয়েছে। এর পর যদি তারা সরকার র্নিধারিত ভাড়া চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করেন। তা হলে আরো কঠোর  ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
জেলা পুলিশ সুপার আসম মাহাতাব উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর সদর,রায়পুর,রামগঞ্জ,রামগতি পৌর শহরগুলোতে বাস যাত্রীদের সুবিধার্থে ভাড়া তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ভাড়ার ব্যাথিত কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাদের বিরুদ্বে তাৎক্ষনিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।