সেনবাগে চাঁদা দাবীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষ-ভাঙচুর
নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সেনবাগে চাঁদা দাবীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ৩-৪টি দোকান ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা মামুন, কামরুল, জাকের, আজিজ, মো. রুবেল, জাহাঙ্গীরসহ মোট ১৫জন। এদের মধ্যে মামুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনত্র বদলী করা হয়েছে। এছাড়া আজিজ, জাহাঙ্গীর, কামরুলসহ ৬জন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দি গ্রামের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা আলী আহমদ সম্প্রতি তার পুরান বাড়ি থেকে সরে গিয়ে পাশে নতুন বাড়ি করেন। তিনি তিন তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। বাড়ি নির্মাণ সময় থেকে একই গ্রামের পশ্চিম পাড়ার ফয়েজ, ছালা উদ্দিনসহ ৮-১০জন যুবক আলী আহমদের কাছে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবী করে আসছিলেন। ঈদের সময় তাদের কিছু টাকাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা আরো টাকা চায়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তারা আলী আহমদের নতুন বাড়িতে গিয়ে এক লাখ টাকা দাবী করে। এ নিয়ে চাঁদা দাবীকারী ও আলী আহমদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায় স্থানীয় কিছু লোকজন একত্রিত হয়ে চাঁদাবাজদের মারধর করে ও ধওয়া দিলে তারা চলে যায়।
সূত্র জানায়, তারই জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব পাড়া থেকে তাড়া ও মারধর খেয়ে নিজেদের পাড়ায় এসে চাঁদাবাজীর ঘটনাকে ভিন্ন দিকে মোড় ঘুরিয়ে নেয় তারা। ঘটনা এক পর্যায়ে দুই পাড়ার মধ্যেকার সমস্যায় পরিণত হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাঁদাবাজ যুবকরা পশ্চিম পাড়া থেকে আরো কিছু মানুষ একত্রিত করে আলী আহমদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং পাশ্ববর্তী ছাতারপাইয়া বাজারে পূর্ব বাজার বাসিন্দাদের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারমান এসে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তিনিও আহত হন। পরে সেনবাগ থানার পুলিশ এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান জানান,  চাঁদা দাবীকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় তিনিসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে মামুন নামে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ চাঁদাবাজীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যেকার সংঘর্ষের কথা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৭১জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৭০-৮০জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে।