অনেক বসন্ত গড়িয়েছে...
::জামাল হোসেন বিষাদ::

এক.
বেশ কিছুদিন ধরে মন ও শরীর ভালো নেই। তবু পেশাগত বাধ্যবাধকতায় গণমাধ্যমের চৌহদ্দী মাড়াচ্ছি নিয়মিত। সবসময় ভেবেছি এ চৌহদ্দীতে থাকা মানে আপন আলয়ে থাকা। সকলেই আপনার আপন। আত্মার অংশ। সুখে-অসুখে, রাগে-অণুরাগে, ব্যদনায় কিংবা11 আনন্দে আমরা সহজন। সমালোচনা নয়, অবস্থার প্রেক্ষিতে বলতে চাই- যাদের সাথে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কাটিয়েছি অথচ এমন সকল অগ্রজ কিংবা অনুজ তাদের কাউকেই চিনতে পারিনি। এ আমার স্বল্প যোগ্যতার ফল হতে পারে, জ্ঞানের দারিদ্রতার ফল হতে পারে, আমার সীমাবদ্ধতার চরম সীমানা হতে পারে। তাই সকলের কাছে ক্ষমা চাই।

দুই.
ঊনিশ এপ্রিল দু’হাজার সতেরো। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে প্রিয় সহকর্মী ! (অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রিয় বলতেও সন্দেহ হয়) রুদ্র মাসুদ লিখলেন- ‘ভাই, লেখা আজকে পাবো?’ জবাবে আমি লিখলাম ‘দেবো’। তারপর থেকে প্রকৃতির বৈরিতা শুরু। লেখা অর্ধেক শেষ করে চলে যেতে হলো আর সকালে এসে দেখি লেখার অনেকাংশ নেই। হারিয়ে গেছে। সম্পর্কের মত করে হারিয়েছে। এ যেনো আমার আপন আলয়ের মানুষগুলোর মত। হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া অথবা মুখ ফিরিয়ে নেয়ার মত।

তিন.
সাপ্তাহিক চলমান নোয়াখালী। শুরুটা কন্টকাকীর্ণ। রাজনৈতিক নেতাদের পরস্পর দম্ভ প্রদর্শণের ফোকর দিয়ে আড়ম্বর আয়োজনেই শুরু হয়েছিলো তার যাত্রা। এখনো খুব মসৃণ বলার সুযোগ নেই তবু... অনেক বসন্ত গড়িয়েছে। ছড়িয়েছে গৌরব। জড়িয়েছে তেজ। চলমান নোয়াখালী পেয়েছে যৌবনের তেজ কিন্তু কুশীলবদের তেজে ভাটার টান! হয়তো মননে তারুণ্যের ছটা থাকতে পারে সমকাল, আশুকাল। জীবনের প্রয়োজনে রচিত সীমারেখা বিচ্যুত হলেও স¦প্নের বুণন থেমে নেই। আমারো সংশ্রব স্বপ্নের শুরু থেকে। তারপর যত কর্মযজ্ঞ, যত সৃজণী প্রায় সবটাতেই আমারো নিবিড় আনাগোনা। সত্যিকারার্থে আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রতিদিন আমার সংবাদকেও এ নিবিড়তা দান করিনি। তা নিশ্চয়ই প্রিয় রুদ্র স্বীকার করবেন অনায়াসে।

চার.
সাপ্তাহিক থেকে দৈনিকে রূপ নিয়েছে আরো তিন বছর আগে। দৈনিক হবার পর চতুর্থ বর্ষে পা রেখেছে চলমান নোয়াখালী। জেলার রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, উন্নয়নে রেখেছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। আগামিতেও এ ধারা বজায় থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।

পাঁচ.
নিবিড়তা আশা করি। রূপ ও খোলস যা তাই যেনো হয় ভেতরের আকার। তুচ্ছ বিষয়ে সম্পর্ক হারানোর মত অথবা মুখ ফিরিয়ে নেবার মত, লেখা হারিয়ে যাবার মত কষ্ট যেনো না পাই। আপন ভেবেছি যারে সে যেনো আপনারই হয়।