হাতিয়ায় জলদস্যু কালাম বাহিনীর আরো তিন সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেফতার
11
নিজস্ব প্রতিনিধি
দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফের অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-১১। র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (সিনিয়র এএসপি) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরীর নেতেৃত্বে গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় বয়ারচরের চতলার ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং মেঘনা মোহনার আতঙ্ক জলদস্যু কালাম বাহিনীর তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। কালাম বাহিনীকে নির্মূল করতে এ নিয়ে তিনবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- কালাম বাহিনীর বর্তমান নদী কমান্ডার মো. রাসেল উদ্দীন (২৫), সদস্য বাহার উদ্দিন (৪০) ও আবুল হোসেন (৩০)। তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় বন্দুক, ১০ রাউন্ড গুলি এবং ৫টি রকেট ফ্লেয়ার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারের পরের দিন মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে প্রেসব্রিফিং এর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন র‌্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর আশিক বিল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন, অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সিনিয়র এএসপি মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরীসহ র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা।
সাংবাদিক সম্মেলনে মেজর আশিক বলেন, ইলিশের মৌসুম এলেই হাতিয়ার বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং মেঘনার মোহনায় জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যায়। নদীতে বেশ কয়েকটি জলদস্যু বাহিনী রয়েছে। এর মধ্যে ভয়ংকর হচ্ছে কালাম চৌধুরী ওরফে কালাম ডাকাতের বাহিনী। তার বাহিনী জেলে ও ট্রলার অপহরণ, টোকেনের মাধ্যমে জেলে ও বোট মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, হত্যা, মাদক ব্যবসা ও নারীদের অপহরণ করে ধর্ষণের মতো জঘণ্য কাজে লিপ্ত। নদীতে যাতে নির্ভিঘেœ জেলেরা মাছ ধরতে পারে সে বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি র‌্যাব এসব জলদস্যু বাহিনী নির্মূল করতে জল ও স্থলপথের বিভিন্ন আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত র‌্যাবের সিনিয়র এএসপি মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি আভিজানিক দল হাতিয়ার চতলার ঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় কালামের বর্তমান নদী কমান্ডারসহ তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।
তিনি বক্তব্যে দস্যুরা কি ধরণের কর্মকান্ডে জড়িত এবং কতখানি ভয়ঙ্কর তা বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রত্যেকের ডাকাতিতে আসা ও তার আগের জীবনীও তুলে ধরা হয়।  
র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে তিন দফায় অভিযান চালিয়ে কালাম বাহিনীকে প্রায় নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব। তিন দফার অভিযানে কালাম বাহিনীর প্রধান কালামসহ ৯জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোট ১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৮ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ রকেট ফ্লেয়ার, নগদ সাড়ে ১৬ লাখ ও ২০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। হাতিয়াসহ বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং মেঘনার মোহনাকে জলদস্যু মুক্ত করতে র‌্যাব সক্রীয় রয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও অভিযান চালানো হবে এবং নদীতে টহল থাকবে। ইলিশের মৌসুমে জেলেদের নির্ভিঘেœ নদীতে মাছ ধরার আহ্বান জানান র‌্যাবের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দস্যুদের অবস্থান নিশ্চিত করে র‌্যাবকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

সড়ক দূর্ঘটনা, অপরাধ ও হামলা-সংঘর্ষ