সোনাইমুড়িতে বিএনপির বর্ধিত সভায় হামলার প্রতিবাদে ব্যারিস্টার খোকনের সংবাদ সম্মেলন
11
নিজস্ব প্রতিনিধি
সোনাইমুড়ি উপজেলা পৌর বিএনপির বর্ধিত সভায় পুলিশ ও আ.লীগের নেতাকর্মীরা যৌথভাবে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করেছে বলে  অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। হামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দুইজন ক্যামেরাপার্সনসহ বিএনপির ১০জন আহত হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সহিদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি মিলনায়তনে তাৎক্ষণিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে খোকন এ অভিযোগ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী খাঁন, সোনাইমুড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি ও সোনাইমুড়ী পৌর মেয়র মোতাহের হোসেন মানিক প্রমুখ।
ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করে বলেন, সকাল ১১টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির পূর্ব ঘোষিত বর্ধিত সভা চলছিল একটি কমিউনিটি সেন্টারে। সভা চলাকালে হঠাৎ পুলিশ এসে সভার বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অনুমতি আছে কিনা জানতে চায়। জবাবে এটা ঘরোয়া পরিবেশে বর্ধিত সভা হচ্ছে বলে পুলিশকে বলা হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে আ.লীগের দলীয় শ্লোগান দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে আ.লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতে সভার উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশও নেতাকর্মীদের মারধর করে। এ সময় সংসাদ সংগ্রহকালে চ্যানেলের দুই ক্যামেরাপার্সন হাসান ও বিজয়কে মারধর করা হয়। এ সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এ ছাড়া তাদের হামলায় বিএনপির সাইফুল, দিপু, রাসেল, সুজন, খালেদ, সাদ্দামসহ অন্তত ১০জন আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বক্তব্য কালে তিনি আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বলেছেন বিএনপি মাঠে নামে না। কিন্তু বিএনপি যখন মাঠে নামে তখন তো দলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশ যৌথভাবে বিএনপির উপর হামলা চালায়। আজতো আমরা ঘরোয়া বৈঠক করছিলামÑ কিন্তু সেখানেও সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশ হামলা চালিয়েছে। তিনি অবিলম্বে দোষি ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানান।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ক্যামেরাপার্সন হাসান জানান, হামলাকারীদের সাথে পুলিশও তাদের মারধর করেছে। সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ.এস.আই) মঈনুল তাকে বেদম মারধর করে। এসময় সেসহ অপর ক্যামেরাপার্সন থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে পুলিশ ও হামলাকারীরা।
জানতে চাইলে বিএনপির সভায় আ.লীগের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন, সোনাইমুড়ি উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের। তিনি বলেন, চিকিৎসাজনিত কারণে তিনি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে। তবে শুনেছেন বিএনপির আভ্যন্তরিক কোন্দলের জের ধরে এক গ্র“পের সভায় অন্যগ্র“প হামলা করেছেন। আ.লীগের কোনো নেতাকর্মী তাদের সভায় হামলা করেননি।
বিএনপির সভায় পুলিশ ও আ.লীগের যৌথ হামলার কথা অস্বীকার করেন সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাঈল মিঞা। তিনি বলেন, কারা হামলা করেছে তা পুলিশ জানে না। তবে সংঘর্ষের কথা শুনে তিনি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, দুইজন ক্যামেরাপার্সন আহত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তাদের গায়ে পুলিশ হাত দেয়নি।

রাজনৈতিক সংবাদ