নোবিপ্রবিতে ওবায়দুল কাদের : মেধাবীরা রাজনীতিতে না এলে মেধাশূন্য ব্যক্তিরা দেশ চালাবে
11
বিশেষ প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মেধাবীরা রাজনীতি না করলে রাজনৈতিক মঞ্চ মেধাশূন্য হয়ে যাবে, মেধাশূন্য ব্যক্তিরা দেশ চালাবে। যোগ্য ব্যক্তিরা এমপি না হলে অযোগ্য ব্যক্তিরা এমপি, মন্ত্রী হবে। চরিত্রবান লোকেরা রাজনীতিতে না এলে রাজনীতির মঞ্চ চরিত্রহীন ও খারাপ লোকের দখলে চলে যাবে।
শনিবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ^বিদ্যালয়ে যে অনুষ্ঠান হচ্ছে এটাকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পরিণত করা উচিত নয়, কারণ চিরকাল আমরা ক্ষমতায় থাকব না। আমরা যখন ক্ষমতায় থাকব না, যাঁরা বিশ^বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানকে রাজনৈকিত অনুষ্ঠানে পরিণত করছে- তখন তাদেরকেও কিন্তু এর শিকার হতে হবে; চিরদিন কেউ ক্ষমতায় থাকে না।
মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জীবিকার জন্য শিক্ষা না নিয়ে জীবনের জন্য শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষা এখন পরীক্ষা কেন্দ্রীক হয়ে গেছে। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী চাতকের মতো প্রশ্নপত্র কোথায় ফাঁসের দিকে তাকিয়ে থাকে। বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করা যায়, অনেক শিক্ষকও এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। আজকে শিক্ষক যদি অনৈতিক কর্মকান্ড করে, ছাত্ররা তাহলে কী শিক্ষা নেবে। শিক্ষক যদি তাঁর ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে ছাত্র নেতাদের কাছে অসহায় আত্মসমার্পন করে তা হলে এই শিক্ষকতার কোনো মূল্য নেই। এ থেকে ছাত্ররা কিছুই পাবে না, তাঁরা ভবিষ্যতে নৈতিকতা মানবে না। খারাপ আচারণ করবে।
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার মান না বাড়লে আমরা র‌্যাংকিয়ে আর্ন্তজাতিক মানদন্ডে উন্নতি করতে পারব না। বাংলাদেশের কোনো বিশ^বিদ্যালয় বর্তমানে বিশ^ র‌্যাংকিংয়ের কোথায়ও নেই। কাজেই শিক্ষার মান না বাড়লে বিশ^ র‌্যাংকিংয়ে অর্ন্তভূক্ত হতে পারব না। শিক্ষার মান বাড়াতে হলে মানসম্মত শিক্ষা দরকার। মানসম্পন্ন পাঠদান ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা এগুবে না।
মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে ১০০টি বিশ^বিদ্যালয়ের মধ্যে যেসব বিশ^বিদ্যালগুলোর নাম আছে- যেগুলো বিশ^ র‌্যাংকিংয়ে যেতে পেরেছে গবেষনার জন্য তারা প্রচুর টাকা খরচ করে। গবেষনার বিকল্প নেই, গবেষনার পেছনে আরও ব্যয় বাড়াতে হবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন- চীন শুধু শিক্ষার গবেষনার জন্য বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য এম অহিদুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী, উপউপাচার্য মো. আবুল হোসেন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ মিঞা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিষ্ট্রার মো. মমিনুল হক। উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, পরীক্ষায় শত শত পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেল। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় দুজনও লিখিত পরীক্ষায় টিকলো না, এরকম শিক্ষার কি কোনো প্রয়োজন আছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করেও অনেকে ভালো ফলাফল করেছে, এই ফলাফল জীবনে কোনো কাজে আসবে না।
মন্ত্রী বলেন, জীবনের অপর নাম হচ্ছে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা। এটা যাঁরা অতিক্রম করতে পারে, তাঁরা সফল মানুষ। জীবনে সফলতা পেতে হলে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। যে জীবনে চ্যালেঞ্জ নেই সেটা জীবন নয়। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখাতো স্বপ্ন নয়, সেটাই স্বপ্ন যেটা ঘুমাতে দেয় না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশের তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ মাদকের ছোবলে ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি নিরব সুনামি। এই নিরব সুনামির বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে, সকল রাজনীতিবিদকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। না হয়- এই নিরব সুনামি আমাদের নতুন প্রজন্ম বা ভবিষ্যতকে শেষ করে দিবে। কাজেই সবাইকে দুর্নীতি, ইয়াবা ও মাদককে না বলার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তৃতায় উপচার্য এম অহিদুজ্জামান বিশ^বিদ্যালয়কে সেশনজট ও ইভটিজিংমুক্ত উল্লেখ করার পাশাপাশি অচিরেই ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দেন।

চলতি সংবাদ