শহরের বাঁকে গোধুলি স্মরণ
-আনিসুর রসূল-

... সন্ধ্যার নক্ষত্র, তুমি বলো দেখি কোন পথে কোন ঘরে যাবো!
কোথায় উদ্যম নাই, কোথায় আবেগ নাই,-
চিন্তা স্বপ্ন ভুলে গিয়ে শান্তি আমি পাবো?
-জীবনানন্দ।
যে শহর আমার নয় সে শহরে আমি অনাহুত। ভূলুয়া থেকে কালক্রমে মাইজদী হয়ে উঠা ছোট্ট এক 11রাস্তার শহর মাইজদী। ২০০২ সালে প্রথম এসেছিলাম। পাঠ চুকানো হয় নি তখনও। সব কিছু পালটে দেবার স্বপ্ন তখন চোখে মুখে। পরবাসের অভিজ্ঞতাই হলো প্রথম দিকে। কাউকে চিনি না, বন্ধু নেই, সুহৃদ নেই। এরই মাঝে পড়–য়া, বন্ধুসভা, সুহৃদ সমাবেশ করে কেটে গেছে তিন বছর।
এতো বন্ধু, এতো আয়োজন করে ঘরে ফিরতেও রাত নামে। জিপসী রমনীর আলিঙ্গলনের মতো আর অবসর পাই না। হঠাৎ নোয়াখালীর ভেতর আরেক নোয়াখালীর সন্ধান ‘চলমান নোয়াখালী’। মফ:স্বলের সংবাদপত্র হলে কি হবে! কি সুন্দর ঝকঝকে ছাপার পাতা, পাঠে চোখ ও মন দুইয়েরই আনন্দ। সেই থেকে আজোও পাঠ করি চলমান নোয়াখালীর পাতা।
২০১২ সালে পুনরায় মাইজদী আসি। এখন এ শহরে বন্ধু নেই, অবসর নেই। আছে কর্মব্যাস্ততা, রুটি রুজির ভাবনা। যাদের সাথে পথ চলেছি কখনও পিচ ঢালা পথে, মেঠো পথে কখনও সে পথে আর হয় না যাওয়া। শহর ছেড়ে গেছে সবাই অমোঘ নিয়তিতে। পড়ে আছে তাদের ছিন্ন-ভিন্ন স্মৃতি শহিদ মিনার, প্রেসক্লাব, টাউন হল মোড়ের গলি, ঘুপচিতে।
দেড় দশকে পড়েছে চলমান নোয়াখালী। কালের হিসেবে বেশী না হলেও মফঃস্বলের সংবাদ হিসেবে এ অনেকটা পথ পাড়ি দেয়া। পাতা বেড়েছে, ছাপার হরফ রঙিণ হয়েছে, কলেবর বেড়েছে, পাঠকও। একদা আমরা যারা ভালোবেসে পাঠে মনোযোগী হয়েছিলাম চলমান নোয়াখালীর পাতায় সে পাতা পাড়ি দিক আরো বহুদূর পথ।