উড়াল মেঘের ভেলা
-মিরন মহি উদ্দীন-
সেই কবে কোনো এক এপ্রিল মাসে পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ, সাপ্তাহিক হিসেবে। সেতো কম সময় নয় চোদ্দ পেরিয়ে পনর বছরে পা। এখনো ‘চলমান নোয়াখালী’ চলমান। সেটাই গর্বের, গৌরবের। আর ভালোলাগে এ জন্যে যে সূচনা সংখ্যাটিতে আমার হাত লেগেছিলো। যদিও পুরো সংগ্রামটা ছিলো রুদ্র মাসুদের। তার কারণে আমাকে, আবু নাছের মঞ্জুকে, জামাল হোসেন বিষাদকে হাত লাগাতে হয়েছে;11 স্বত:স্ফূর্তভাবেই। সবটাই রুদ্রর ব্যক্তিগত ভালোবাসা আর ভালোলাগার ফসল। এ সূত্রেই মনে পড়ে যায়। আমার জন্ম জেলায় আমার সংবাদকর্মী হয়ে কাজ করা। আর আমাদের হাত ধরেই আরো দু-তিন খানা সাপ্তাহিকের জন্ম। শুধু তাই নয়, ‘বিশ্ব সাংবাদিক দিবস’ উদ্যাপনও আমার উদ্যোগে হয়। অন্যদের আন্তরিক সহযোগিতায়। বৃহত্তর নোয়াখালীর সাংবাদিকরা প্রথম জানলেন দিবসটির তাৎপর্য। সবাই সমবেত হয়েছিলেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবে। যদিও সেদিন সকালটায় আবহাওয়া ছিলো বৈরি। তবু ঝড় ঝাপটা উপেক্ষা করে সবাই এসেছিলেন। যেন এমনি একটা আয়োজনের অপেক্ষা করছিলেন সবাই; মন খুলে প্রাণ পেলে কথা বললেন। যার যার কর্ম-অঞ্চলের পেশাগত সমস্যা নিয়ে। বেগমগঞ্জের সাংবাদিকরা তো ওইদিন বিকালেই আয়োজন করেছিলো সাংবাদিক সমাবেশ। সদর থেকে আমাকে যেতে হয়েছিলো তাদের ডাক পেয়ে; রুদ্র-কামরুল ওরা।
রুদ্র’র শুরুটাও বেগমগঞ্জে। ওখানকার সাংবাদিক সহকর্মীরাও তাকে সহযোগিতা করেছে ‘চলমান নোয়াখালী’ চালিয়ে নিতে। আসলে একজন নির্ভিক কলম সৈনিককে কেনা ভালোবাসে। সব ভ্রুকুটিকে তুচ্ছ করে যে সত্য কথা বলতে কখনো পিছু পা হয় নাÑ এমন মানুষকে ভালো না বেশে পারা যায় কী? ধরে নেয়া যাক, আমি-আপনি নানা পরিস্থিতির চাপে পড়ে ‘সত্য’ উচ্চারণ করতে পারি না বা পারছি না। কিন্তু অন্য একজন যখন বুক চিতিয়ে সত্য কথা বলে, তখন তাকে সমর্থন না করে তো থাকা যায় না।
পনের বছরের দ্বার প্রান্তে এসে ভাবতে হচ্ছে, আসলে আমরা কি পেলাম, কতোটা পেলাম, বা কতোটা দিতে পারলাম সমাজকে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে? সংবাদপত্র বা সংবাদকর্মীর যা করণীয় যা কর্তব্য তার কতোটা পালন করতে পেরেছি? হ্যাঁ একথা বলতেই পারা যায় যে, আমরা সচেষ্ট ছিলাম বা আছি- সত্যের পাশে দাঁড়াতে। আর যতোটা পারিনি, তার জন্যে আমাদেরই সৃষ্ট পাকদন্ডিতে ঘোরপাক খাচ্ছি। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবতো পুরো দেশ জুড়েই। ভালো কাজের প্রত্যাশা সর্বস্তরের মানুষের। কিন্তু যারা ভালো কাজকে পৃষ্টপোষকতা করতে পারেন, তারাই বেশি বেশি কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো সহযোগিতাই করেন না একদম। যেন ভালো কাজটা হলে, সমাজ এগিয়ে গেলে, অন্যায়-অনাচার কমে গেলে, যেন তাদের খুব ক্ষতি হয়ে যাবে। তবু দেখা যায়, যারা সামর্থহীন, যারা কম কথা বলেন, অথচ মনে মনে প্রত্যাশা করেন ভালো কিছু একটা হোক, তারা তাদের সামর্থ অনুযায়ী এগিয়ে আসেন নীরবে। এ এগিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা খুবই কম- এমনটাও বলা যায় না। কিছু সংখ্যক তো আছেন বলেই এখনো ভালো কাজ হচ্ছে; কম হলেও হচ্ছে।
পৃষ্টপোষকতার অপ্রতুলতা আর সহযোগিতার বাড়ন্ত পরিস্থিতিতেও ‘চলমান নোয়াখালী’ সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হিসেবে প্রকাশে সচেষ্ট হয়েছে- তারও চার বছর পর করেছে। আত্মসমালোচনা করলে স্বীকার করতে হয়, এটাই যথেস্ট নয় যে প্রকাশনার বর্ষ গুনন ছাড়া তেমন কোনো উল্লেখ যোগ্য কাজ আমরা করতে পেরেছি কি?
এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় এখন আমাদের।

লেখক: নাট্যকার ও মিডিয়া কনসালটেন্ট।