হাতিয়ায় জলদস্যু বাহিনী প্রধান খোকন অস্ত্রসহ গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিনিধি
হাতিয়ার মেঘনা ও বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এলাকার জলদস্যু খোকন বাহিনীর প্রধান আল-মামুন খোকনকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে কোষ্টগার্ড। সোমবার বিকেলে হাতিয়ার মেঘনার ঘাসিয়ারচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে সন্ধ্যায় খোকনকে নিয়ে হাতিয়ার মূল ভূ-খন্ডে ফেরার পথে স্থানীয় বার আউলিয়ার বাজারে কোষ্টগার্ডের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে তাকে নেওয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় কিছু লোকজন। এক পর্যায়ে কোষ্টগার্ড ১১টি ফাঁকাগুলি ছোঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কোষ্টগার্ডের হাতিয়া ষ্টেশনের কমান্ডার লে. বোরহান উদ্দিন বলেন, সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোষ্টগার্ডের একটি দল মেঘনার ঘাসিয়ারচরের জলদস্যু খোকন বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাহিনী প্রধান আল-মামুন খোকন ওরফে খোকা ডাকাত একটি এলজি ও দুইটি গুলিসহ কোষ্টগার্ডের হাতে ধরা পড়ে। পরে খোকনের স্বীকারোক্তি মোতাবেক চরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও চারটি পাইপগান ও বেশকিছু ডাকাতির সরাঞ্জম উদ্ধার করা হয়।
লে. বোরহান আরও জানান, খোকনকে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের পর সন্ধ্যার দিকে তাকে (খোকনকে) হাতিয়ার মূল ভূ-খন্ডে আসার পথে স্থানীয় বার আউলিয়ার বাজারে একদল লোক লাঠিসোঠা নিয়ে এগিয়ে আসে।  তারা খোকনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কোষ্টগার্ড সদস্যরা ১১টি ফাঁকা গুলি করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।  
কোষ্টগার্ড সূত্র জানায়, বাহিনী প্রধান খোকনের বিরুদ্ধে হাতিয়া ও রামগতি থানায় একাধিক হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি রামগতির চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম হত্যা মামলারও প্রধান আসামি খোকন। রামগতি উপজেলার চর গজারিয়া গ্রামে খোকনের বাড়ি। তাঁর বাবার নাম মো. ইসমাইল। তাঁকে মঙ্গলবার হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
হাতিয়ার একাধিক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রামগতির খোকন ডাকাতের বাহিনী লোকজনের চাঁদাবাজি, হামলা ও মাছ লুটের অনেক ঘটনা তারা নিরবে সয্য করেছেন। ভয়ে অনেকে তার বিরুদ্ধে মামলা করারও সাহস পেতেন না। খোকনকে গ্রেফতার করার খবরে উপকূলীয় এলাকার জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।