হাতিয়ায় নৌকা ডুবিতে দুই জেলে নিহত, দুই নৌকা নিখোঁজ
নিজস্ব প্রতিনিধি-
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় দুই জেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে একজন আহত অবস্থায় হাসপাতাল নেয়ার পথে মারা যায়। অপর জনের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করাহয়। ঘটনায় দুটি নৌকা এখনও নিখোঁজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে পৃথক স্থানে নৌকা ডুবির ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হচ্ছেন, হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. সোলেমান ওরফে সোলেমান মাঝি (৪০) ও চরকিং ইউনিয়নের চরবগুলা গ্রামের শামীম আহমেদ (১৮)।
জেলেদের একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ নদীতে ঝড়ো হাওয়া দেখা দেয়। এছাড়া জোয়ারও সাভাবিকের ছেে তীব্রতর হয়। এতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হাতিয়ার মেঘনা নদীর বিভিন্ন অংশে অন্তত ১০টি ইলিশ মাছ ধরার নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে। এর মধ্যে সুবর্ণচর উপজেলার আলা উদ্দিনের মালিকানাধীন নৌকা ২১জন কেয়ারিং চরে, কালাম মাঝির ১৫জন নিয়ে দমার চরে ও অলি মাঝির ১৫জন মাঝি-জেলেসহ বুড়ির চরে ডুবে যায়। তবে তীরবর্তী হওয়ায় বেশিরভাগই সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম। এর মধ্যে কালাম মাঝির নৌকার ১৫জন জীবিত উদ্ধার হলেও সোলেমান মাঝি নামে একজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে অলি মাঝির নৌকার শামিম নামে এক জেলের মরদেহ বুড়ির চরে সূর্যমুখী খাল থেকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
সূত্র জানায়, ১০টি নৌকার মধ্যে ২টি এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে একটির মালিক সুবর্ণচরের আলা উদ্দিন ও অপরটি নূর উল্যাহ্ মাঝির। এছাড়া উদ্ধার হওয়া অলি মাঝি, আজহার মাঝি, রুবেল মাঝি, কাদির মাঝি, রবিউল মাঝি, মেহরাজ মাঝি, শুক্কুর মাঝি ও কালাম মাঝির নৌকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাতিয়া কোষ্টগার্ডের কমান্ডার লে. ফারুকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পরই নদীতে বেশ কয়েকটি ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে ও তীব্র জোয়ারে ডুবে যায়। তবে নৌকাগুলোর প্রায় সকল মাঝি-মাল্লা জীবিত কূলে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও দুইজন নিহত হয়েছে। তারপরও কোথাও আর কোনো হতাহত হয়েছে কিনা তার খোঁজ খবর নিচ্ছে কোষ্টগার্ড।