নোয়াখালীতে বিএনপির মিছিলে পুলিশের বাধা, গুলি : আহত ৩০, আটক ১১
11
বিশেষ প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে বিএনপির পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। এতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। এতে বিএনপি ও অংগসংগঠনের গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলোসহ ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে বলে বিএনপি দাবী করে। বুধবার সাড়ে ১০টায় জেলা শহরের রশিদ কলোনিসহ ২-৩টি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপির দাবী মূল মিছিলে যোগ দিতে রশিদ কলোনির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে আসার সময় পুলিশ প্রত্যেক স্থানে বাঁধা দেয়। জেলা শহরের পৌর বাজার এলাকায় একটি মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং সেখান থেকে নোয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ওরফে ভিপি জসিমকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া রশিদ কলোনিতে হামলা চালিয়ে জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলোসহ মোট ১১জন নেতাকর্মীকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিল্লার একটি আদালত গত সোমবার বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করে। ঘটনার 11প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয় দলের জেলা কমিটি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সাংসদ মো. শাহ্জাহানের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের রশিদ কলোনিস্থ তাঁর বাসভনের সামনে থেকে মিছিল বের করার প্রস্তুতি চলে। এ সময় পুলিশ মিছিল বের না করার জন্য বলে। এ নিয়ে মো. শাহজাহানের সঙ্গে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে লাঠিচার্জ, পরে শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেল ছুঁড়তে থাকলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় বিএনপির ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশকে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশও এক পর্যায়ে এলোপাতাড়ি শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে গুলিবিদ্ধসহ বিএনপির অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন বিভিন্ন স্থান থেকে ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এর আগেও বিভিন্ন স্থানে খন্ড খন্ড মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ।  
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহ্জাহান’র মুঠোফোনে দুপুরে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারি হাসানুর রহমান রিয়াদ (রতন)। তিনি জানান মো. শাহজাহান মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তিনি মো. শাহজাহানের বরাত দিয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের হওয়ার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ অতর্কিতে নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। পুলিশের গুলি, লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেলের আঘাতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপির মিছিল পুলিশ কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করেনি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিলের নামে রাস্তায় নেমে গাড়ি ও দোকানপাঠ ভাঙচুর করলে তাধের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২-১৫ রাউন্ড শর্টগান ও ১০-১২ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৪-৫জনকে আটক করা হয়েছে। 12
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিএনপি ও পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালীন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মিছিলও ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর রূপ নেয়ার অবস্থা তৈরি হয়। পরে অবশ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজে থেকে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি।
এ বিষয়ে জেলা আ.লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি শহরে অরাজক পরিস্থিতি শুরু করেছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি মিছিল ঘটনাস্থলে গেলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
11