নোয়াখালী ভবনে মিলন মেলা
11
রুদ্র মাসুদ-
প্রবাসের প্রতিনিয়ত ছুটে চলা কর্মমুখর জীবনে পারিবারিক পরিমন্ডলের বাইরেও মানুষ সময় সুযোগ করে মিলত হয় নিজের সমাজ-সংস্কৃতির টানে। রাজনীতির উর্ধ্বে নানা উপলক্ষে শুধুমাত্র আঞ্চলিকতার টানে ছুটির দিনগুলোতে নানা অনুষ্ঠানে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে নিউইয়র্কে অবস্থিত বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও আঞ্চলিক সমিতি/সোসাইটি অফিসগুলো। এমনিভাবে রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের নোয়াখালীবাসীর ঠিকানা  ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডের নোয়াখালী ভবনেও বসেছিলো মিলন মেলা।
নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এ বি এম জাফর উল্যার যুক্তরাষ্ট্রে আগমনকে আয়োজিত মতবিনিময় সভাটি পরিণত হয় মিলন মেলায়।  সভা উপলক্ষ্যে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকা এবং বিভিন্ন স্টেট থেকেও নোয়াখালীর বাসিন্দারা অংশ নেন। বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুন প্রবাসীরা নিজ জেলা এবং দেশ নিয়ে তাঁদের ভাবনা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর ব্যানারে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ ইনক্ এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি সালামত উল্যা আহম্মেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজু মিয়া, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট নুরুল আমিন বাবু, আবুল কালাম, বেগমগঞ্জ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক বাদল, নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বেলাল হোসাইন, খোকন মোশারফ, দ্বীন ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, ছাত্রনেতা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
বক্তারা কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে নিজ এলাকায় গড়ে তোলা সহায়-সম্পদ এবং এলাকায় মাদকের ভয়াল ছোবল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বৃহত্তর নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানানোর পাশাপাশি প্রবাসীদের বিনিয়োগ এবং এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এ বি এম জাফর উল্যা মতবিনিময় সভার আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞ জানিয়ে বলেন- নোয়াখালী ভবন নোয়াখালীর ঠিকানা। নিজের মাতৃভূমির টানে যারা নিজেরা সংগঠিত হয়ে একই ছাতার নিচে অবস্থান করে প্রবাসে নিজেদের অবস্থানকে তুলে ধরেছেন তাদের অভিবাদন। নোয়াখালী বিভাগের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন- দেশে নতুন কোন বিভাগ হলে নোয়াখালী অগ্রাধিকার পাবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। তাছাড়া নোয়াখালী উপকূলে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ভূমির উন্নয়ন, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠান, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশের কথা উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি কোন প্রবাসী কিংবা তাদের স্বজনরা আইন-শৃঙ্খলাজনিত কোন ধরণে হয়রানির শিকার হলে তাঁকে অবহিত করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন। রাজনৈতিক বিবেচনার উর্ধ্বে প্রবাসীদের যে কোন প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শেষে আগতরা নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচী/অনুষ্ঠান ও প্রবাসের খবর