সুবর্ণচরে বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনকারী ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দাবী
11
নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সুবর্ণচর উপজেলার ২ নম্বর চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে মানবন্ধন-সমাবেশ হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে প্রধান সড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র জেলা শাখা।
মানববন্ধন-সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সংগঠক স্বর্ণালী আচার্য্য। এ সময় বক্তব্য রাখেন, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্য তারকেশ্বর দেবনাথ, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সংগঠক মুনতাহার প্রীতি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গত ৪ অক্টোবর পারিবারিক ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে ইউপি পরিষদে রাতভর নির্যাতনের শিকার হন এক নারী। ইউপি চেয়ারম্যান ওই নারীকে ধর্ষণও করেছে। ধর্ষণের কথা ফাঁস করে দেয়ার কথা বললে রাতভর দফায় দফায় একটি কক্ষে আটক রেখে ওই মেয়েকে নির্যাতন করে চেয়ারম্যান। পরিষদের বাহিরে রাতভর নির্যাতিতার চিৎকার শুনতে হয়েছে তার আত্মীয়স্বজনদের। এ ঘটনায় চরজব্বার থানায় মামলা হলেও পুলিশ আজ পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেনি।
পুলিশ ধর্ষক ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনায় উল্টো নির্যাতিতা পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে তারা। চেয়ারম্যান ক্ষমতাশীন দলের বড় নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে নানাভাবে নির্যাতিতা পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। থানা পুলিশ থেকে মামলাটি ডিবিতে গেলেও কোনো লাভ হয়নি। মামলার করার পর দুই সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেনি। আধাঘন্টা ব্যাপী চলা এ সমাবেশে বক্তারা বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান।
জানতে চাইলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারে তাঁরা তৎপর রয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যানের অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে। এছাড়া তাঁর সেলফোন ট্রেকিং দিয়েও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ: গত ৪ অক্টোবর পারিবারিক বিষয়ে বিচার চাইতে গিয়ে প্রথমে নাজেহাল হন সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের মধ্যম চরবাটা গ্রামের এক নারী। ওই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাড়ি থেকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ওই নারী, তার সঙ্গে থাকা তিন ভাই ও এক বোনকেও অকথ্য ভাষায় গলি গালাজ করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল। এক পর্যায়ে রাতে একটি কক্ষে আটক রেখে বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি বাহিরে ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখালে চেয়ারম্যান রাতে পরিষদের একটি কক্ষে আটক রেখে রাতভর দফায় দফায় তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। পরের দিন ৫ অক্টোবর সকালে চেড়ে দিলে ওই নারী প্রথমে উপজেলার চরজব্বার থানায় ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে চায়নি। পরে গণমাধ্যম কর্মি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের চাপের মুখে মামলা নেয়। কিন্তু মামলা হলেও পুলিশ ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেনি।


চলতি সংবাদ