ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে নোয়াখালী আইন কলেজের সীমানা দেয়াল ভাঙার অভিযোগ
13
নিজস্ব প্রতিনিধি-
কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই রোববার সকালে হঠাৎ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশ নোয়াখালী আইন মহাবিদ্যালয়ের একটি বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে ফেলে। এতে হতভম্ব হয়ে পড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সোমবার দুপুরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহীন আরা আখতার একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ল’ কলেজের অধ্যক্ষ তাঁর লিখিত অভিযোগে বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর পর্যন্ত জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পিছনে দানপত্র দলিল মূলে ২৫ শতাংশ জমিতে নোয়াখালী আইন মহাবিদ্যালয় স্থাপন আইন শিক্ষা দিয়ে আসছেন। এর পাশে আরো গণপূর্ত বিভাগের অনুমতিক্রমে নোয়াখালী প্রি-ক্যাডেট স্কুলও পরিচালনা করে আসছে। ওই স্কুলটিও আইন মহাবিদ্যালয় পরিচালনা করছে। বর্তমানে আইন মহাবিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ ও প্রি-ক্যাডেট স্কুলে ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। গত কয়েকদিন পূর্বে কলেজের ব্যবহৃত জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরটি মেরামত করতে গেলে জেলা পুলিশ সুপারের মৌখিক নির্দেশে ডিবি পুলিশ মেরামতে বাধা দেয়। পরবর্তীতে কলেজ ও স্কুলের সুরক্ষায় নির্মিত পশ্চিম পাশের সীমানা দেয়ালের একটি অংশ গত রোববার ৫ নভেম্বর ডিবি পুলিশের উপস্থিতিতে ভেঙে ফেলা হয়।
তিনি আরো বলেন, বাউন্ডারী ওয়ালটি ভেঙে ফেলায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে কলেজ ও ক্যাডেট স্কুলটি। এতে উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এমন অবস্থায় নিরাপত্তা ও শিশু বাচ্চাদের জীবন রক্ষার্থে ভেঙে ফেলা বাউন্ডারী ওয়ালটি পুনস্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইন কলেজ ও ক্যাডেট স্কুলের পশ্চিম পাশে ডিবি কার্যালয় এবং দক্ষিণ পাশে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়। যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করার দায়িত্ব পুলিশের সেখানে ডিবি পুলিশের ওসি আতাউর রহমান নিজে উপস্থিত থেকে বাউন্ডারী ওয়ালটি ভেঙেছেন। তবে কেন এটি ভাঙা হয়েছে এ বিষয়ে পূর্ব থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার লিখিত নোটিশ বা সরকারি কোনো দপ্তরের নোটিশও দেয়া হয়নি। হঠাৎ করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে ফেলায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন।
জানতে চাইলে আইন কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান। তিনি বলেন, তারা এর কিছুই জানেন না।
অবশ্য জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, আইন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের নিযুক্ত শ্রমিক দিয়ে বাউন্ডারী ওয়ালটি ভেঙেছেন বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু কেন এখন পুলিশের কথা বলছে তা তিনি অবগত নয়।