সেনবাগে পরীক্ষার হলে ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচারণ করায় শিক্ষকের কারাদন্ড
নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সেনবাগে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে এক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচারণ করার অপরাধে মো. ইব্রাহিম (২৭) নামের এক শিক্ষককে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এ কারাদন্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আলম।
দন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. ইব্রাহিম উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের চাঁদপুর খলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকশ্রেণির শিক্ষক। আদালতের আদেশের পর তাঁকে থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।
পরীক্ষা কেন্দ্র ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকের বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে গাজীরহাট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থী ছাত্রী (১১) প্রশ্ন বুঝতে অসুবিধা হলে হলে কর্তব্যরত পরিদর্শক মো. ইব্রাহিমের সহায়তা চান। ইব্রাহিম ওই ছাত্রীকে প্রশ্ন বুঝিয়ে দেওয়ার সময় আপত্তিকরভাবে তার গায়ে হাত দেন। এ সময় ছাত্রী বিষয়টি বুঝতে পেরে কান্নকাটি শুরু করেন। তাৎক্ষনিক হলে পরিদর্শদের দায়িত্বে থাকা অন্য শিক্ষক ঘটনার প্রতিবাদ করেন। পরে এক পর্যায়ে শিক্ষক ইব্রাহিমকে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়।
সূত্র জানায়, দুপুর একটায় পরীক্ষা শেষ হলে বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আলম জানতে পেরে অভিযুক্ত শিক্ষককে এবং ঘটনার শিকার ছাত্রীকে শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে ছাত্রীর বক্তব্য এবং শিক্ষকের দোষ স্বীকারের পর শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন ইউএনও।
জানতে চাইলে ইউএনও শারমিন আলম বলেন, ছাত্রীর বক্তব্য শোনার পর শিক্ষক নিজেই তাঁর দোষ স্বীকার করেছেন। যার ভিত্তিতে শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আদেশের পর দন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
চলতি সংবাদ