নোয়াখালীতে বিভিন্ন কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মানববন্ধন-সমাবেশ
13
নিজস্ব প্রতিনিধি
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়েছে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে বিক্ষোভ মানববন্ধন-সমাবেশে এ দাবী জানান শিক্ষার্থীরা। এর আগে তারা নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে একটি মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনের তুলনায় চলমান অতিরিক্ত ইজিবাইক, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা কমানো, প্রশিক্ষিত চালক দ্বারা যানবাহন চালানোর ব্যবস্থা করা, নোয়াখালী জেরা শহর থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত টাউনবাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা, চৌমুহনী থেকে সোনাপুর পর্যন্ত বিকল্প সড়ক নির্মাণ, জেলা শহরের সংযোগ সড়কগুলো সংস্কার, দিনের বেলায় মাটি ও বালিবাহি পিকআপভ্যান চলাচল বন্ধ রাখা, যত্রতত্র দুরপাল্লার গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং শহরতলিতে সকল প্রকার যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানান। তারা তথাকথিত দুর্ঘটনার নামে হত্যায় জড়িত চালকদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।
ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাইফুল, মাহাদি ও বাপ্পি প্রমুখ।
তারা বলেন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যানবাহনগুলো যারযার মতো করে চলছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন গাড়ি নামছে সড়কে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছেই। শুরুতেই জীবনের আলো নিভছে প্রজন্মের। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও চালকদের অধক্ষতার কারণে গত ১৫ দিনে অন্তত ৫টি শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে। এক সপ্তাহের মাথায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজের মেধাবি দুই ছাত্রী মারা গেছে। এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব। এমন হত্যার সঙ্গে যুক্ত একটি চালককেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। শিক্ষার্থীদের দাবী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। মানবন্ধন-সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সড়ক দুর্ঘটনাকে শুধু সড়ক দুর্ঘটনা না বলে এটাকে হত্যাকান্ডের আওতায় এনে দোষি চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আমরা তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করি। কিন্তু দেখা গেছে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার  মামলা করা তো দুরের কথা, উল্টো কোনো অভিযোগ নেয় বলে থানায় লিখিত দিয়ে যায়।
এ পুলিশ কর্মকর্তার মতে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত গাড়ি কমাতে হবে, একই সঙ্গে দক্ষ চালকের হাতে গাড়ি তুলে দিতে পারলেই দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
11
চলতি সংবাদ