সুবর্ণচরে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটের মারধরে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রী আহত
নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে (১৫) মারধর করেছে মো. রুবেল নামে এক বখাটে। এতে ওই ছাত্রীর নাক ফেটে রক্তক্ষরণ হয় এবং তার মুখ ও মাথায় জখম হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ঘোষফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চরজব্বার থানায় অবিহত করা হলেও বখাটে রুবেলকে আটক করতে পারেনি।
আহত ছাত্রী চরবাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় রামগবিন্দ (আরজি) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা। তার বাবার নাম নুর মাওলা।
আহত ছাত্রীর বাবা নুর মাওলা জানান, দীর্ঘদিন পর্যন্ত তার প্রতিবেশি নূর নবীর ছেলে মো. রুবেল তার মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছে। বিষয়টি তার পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে শাসনও করেছে। এতে কয়েকদিন তার বখাটেপনা বন্ধ থাকে। হঠাৎ গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেয়ে প্রাইভেট পড়তে আসার পথে আরজি স্কুলের দক্ষিণ পাশে রাস্তায় তার পথরোধ করে রুবেল। এ সময় রুবেল মেয়ের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং তাকে উত্যক্ত করতে থাকলে মেয়ে রুবেলকে বাধা দেয় এবং চিৎকার করে স্থানীয়দের ডাক দিবে বলে। এতে রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে মা-বাবা তুলে গালি দিয়ে মেয়েকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে। এতে মেয়ের নাক ফেটে রক্ত বের হয় এবং মুখ ও মাথা ফুলে যায়। পরে মেয়ের চিৎকারে রুবেল পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনিসহ স্থানীয় লোকজন মেয়েকে নিয়ে আরজি স্কুলের শিক্ষকদের অবহিত করে। পরে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানায় বিষয়টি অবহিত করেন।
তিনি বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে সাথে নিয়ে ইউএনও’র দারস্ত হলেও তিনি তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি। তবে ছেলের নাম ঠিকানা লিখে রাখেন এবং বিষয়টি থানায় অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেন। পরে তিনি থানায় গিয়ে বখাটে রুবেলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত দিলে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে বিকালের মধ্যে রুবেলকে থানায় হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে আসেন। তবে তখন রুবেল এলাকায় ছিল না। পরে স্থানীয়ভাবে ডাক্তার দেখিয়ে তার মেয়ের নাকের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়ে আহত অবস্থায় বাড়িতে রয়েছেন।
জানতে চাইলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী চরজব্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গেলেও ছেলেকে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার মধ্যে ছেলে ও তার বাবাকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। অবশ্য প্রাথমিকভাবে মেয়েটিকে মারধর করার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে কি কারণে ঘটনার সূত্রপাত তা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বললেই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।
দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু ওয়াদুদ বলেন, তাৎক্ষণিক ছেলেটিকে ধরে আনতে পারলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতেন। যেহেতু তারা ধরে আনতে পারেনি, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। পুলিশের মাধ্যমে ছেলের বাড়িতে খবর দেয়া হয়েছে সন্ধ্যার মধ্যে যাতে তারা থানায় উপস্থিত হয়। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

চলতি সংবাদ