কোম্পানিগঞ্জে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী আটক
নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মোহছেনা আক্তার চাদনী (৩৮) নামে এক গৃহবধূ অগ্নিদগ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে গত বুধবার রাত ২টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়ায় স্বামীর বাড়িতে তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। ঘটনায় জড়িত সন্দ্বেহে স্বামী জামাল উদ্দিনকে (৩৫) স্থানীয়রা আটক করে কোম্পানীগঞ্জ থানা-পুলিশে সোপর্দ করেছে।
অগ্নিদগ্ধ হয়ে গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, গত বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মোহছেনাকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পান তিনি। ঘটনায় রাতেই স্থানীয়রা মোহছেনার স্বামী জামাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয় কিভাবে অগ্নিদগ্ধ হন মোহছেনা। এছাড়া ঘটনায় নিহতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ৫ বছর পূর্বে জামাল উদ্দিনের সঙ্গে মোহছেনার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এর বেশ কয়েক বছর পূর্বে একই এলাকার জয়নাল আবদীনের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয় তার। ওই ঘরে মোহছেনার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। প্রথম ঘরের চার সন্তান তাদের বাবার কাছে থাকেন। দ্বিতীয় ঘরে মোহছেনার কোনো সন্তানাদি নেই। মোহছেনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মৃত হারিছ আহমদের মেয়ে।
সূত্র জানায়, বুধবার রাত ২টার দিকে মোহছেনা ও তার স্বামীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। এসময় তারা দেখতে পায় মোহছেনার শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে গেছে এবং তার স্বামীর শরীরেরও কিছু কিছু অংশ পোড়া। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে মোহছেনাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান এবং তার স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটককৃত জামাল উদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে তার স্ত্রীর গায়ে আগুন দেয়নি। রাতে খাওয়া-ধাওয়া শেষে দুইজন ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ একটি শব্দ হয় এবং তার স্ত্রী চিৎকার দেয়। তিনি ওঠে দেখেন তার স্ত্রীর শরীরে ও খাটের লেপ-তোষকে আগুন। এ সময় তিনি স্ত্রীর গায়ের আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং চিৎকার দেয়। এতে তাঁর শরীরেরও কয়েকটি অংশ পুড়ে যায়। তার ভাষ্য মতে, বালিশের নিচে থাকা গ্যাস লাইট বিস্ফোরিত হয়ে এ অগ্নিকান্ড ঘটে।
চলতি সংবাদ