সোনাইমুড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ছাত্রলীগ কর্মী নিহত আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুইজন গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের গুলিতে শাকিল আহমেদ (১৯) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে দেওটি বাজারে গুলির ঘটনায় আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে সাড়ে ৯টার দিকে চৌমুহনীতে তার মৃত্যু হয়।
শাকিল দেওটি ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের আবুল হাশেম খোকার ছেলে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মি ছিলেন বলে জানা যায়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত শীবপুর গ্রামের হেদায়েত উল্যাহ্র ছেলে সাইফুল ইসলাম রাশেদ (২০) ও আমিরাবাদ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মনির হোসেন আরমানকে (১৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় ফাইপগান, একটি দোনলা বন্দুক ও একটি বড় ছোরা জব্দ করা হয়।  
দেওটি ইউপি সদস্য আবুল খায়ের জানান, এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হালে ছাত্রলীগে যোগদানকারী লিটন তার সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে লিটন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃত স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মি সাঈদের গায়ে ধাক্কা দিয়ে দেওটি বাজারে চলে যায়। পরে সাঈদ বাজারে গিয়ে লিটনকে এভাবে গাড়ি দিয়ে তাকে চাপা দেয়ার চেষ্টা কেন করেছে তা জিজ্ঞাসা করলে লিটন ও সাঈদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর লিটনসহ ৭-৮জন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাজারে আসে এবং সাইদের উপর হামলা চালায়। এমন সময় শাকিল বিষয়টি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। এসময় হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকলে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন চারদিক থেকে বের হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাকিলকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় চিকিৎসকরা। রাতে এ্যাম্বুলেন্স যোগে শাকিলকে ঢাকায় নেয়ার পথে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে তার মৃত্যু হয়।
ইউপি সদস্য আরো জানান, শাকিল দেওটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন সক্রীয় কর্মি। মঙ্গলবার সারাদিন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ভর্তির মাইকিং করেছিল তিনি। রাতে মাইকিং শেষে দেওটি বাজারে দোকানিকে মাইক জমা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এর মধ্যে তার খালাত ভাই সাঈদের উপর হামলার কথা শুনে ঘটনাস্থলে গেলে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
জানতে চাইলে সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল মিঞা গুলিতে ছাত্রলীগ কর্মির মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিপক্ষের দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালের দিকে শাকিলের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনায় শাকিলের বাবা আবুল হাশেম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

চলতি সংবাদ