প্রজনন মওসুমে বেশীরভাগই ধরা পড়ছে ছোট সাইজের ইলিশ, ঝাটকা ! : জেলেরা বলছেন অস্বাভাবিক, বিশেষজ্ঞদের মতে শুভলক্ষণ
11
রুদ্র মাসুদ, নোয়াখালী উপকূল থেকে ফিরে-
ভাদ্রের শেষে আর আশ্বিনের শুরুতে অবশেষে নোয়াখালী উপকূলের জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ। অমবস্যার পর সোমবার থেকেই জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও বেশীরভাগই সাইজে ছোট এবং ডিম ছাড়া। তবে; উল্লেখযোগ্য হারে ধরা পড়ছে ঝাটকা ইলিশ। যেসময়ে বড় বড় ইলিশে জাল ভরে যাওয়ার কথা তখন ছোট সাইজের ইলেশের কারণে দামের দিক থেকে মার খাচ্ছে জেলেরা। তারওপর ক’দিন পরই প্রজনন মওসুমের কারণে ১০দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন জেলেরা। তাঁদের দাবি এটি অন্তত আরো ১০ থেকে ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া উচিৎ ছিলো।
এদিকে ডিমওয়ালা বড় সাইজের ইলিশের পরিবর্তে বিপুল পরিমানে ঝাটকা কিংবা ছোট সাইজের ইলিশ ধরা পড়াকে অস্বাভাবিক বলে মত দিলেও ইলিশ নিয়ে গবেষণা করে এমন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন এটি শুভলক্ষণ। তাহলে সারাবছর মাছ মিলবে।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে মঙ্গলবার শেষ বিকালে নদী থেকে ইলিশ ধরে ফিরছিলেন জাবের মাঝি (৪৮)। ১০জন মাঝি মাল্লা নিয়ে দুপুরে গিয়ে তিনি বিকেলে ফেরা পর্যন্ত তাঁর জালে ধরা পড়ছে ২১পিচ ছোট ও মাঝারি সাইজের ইলিশ মাছ। যেগুলোর দু’একটি বাদে বাকীগুলোতে ডিম নেই। এ মাঝির ছবিল (জ্বালানীসহ অন্যান্য খরছ) হয়েছে আড়াই হাজার টাকা।
সমকালের সাথে আলাচারিতায় জাবের মাঝি জানালেন, ২১ পিজ ইলিশ মাছ সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। মওসুমের এ সময়ে সাধারণত বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ে। বড় সাইজের ইলিশ হলে তিনি বিক্রি করতে পারতেন ১০ হাজার টাকায়। তাঁর মতে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মাত্র ক’দিন পরই (২৫ সেপ্টেম্বর) ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার কথা। অথচ এখন ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে না। উপরন্ত‘ নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ঝাটকা। আশ্বিনের শেষ নাগাদ ইলিশ মাছ ডিম ছাড়বে বলে মত জাবের মাঝির।
শুধু জাবের মাঝিই নয় চেয়ারম্যান ঘাটে জেলে, মাঝি-মাল্লা, আড়ৎদার ও ব্যাপারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই সময়ে বিপুল পরিমানে ঝাটকা ধরা পড়ার বিষয়টি রীতিমতো অস্বাভাবিক। যে সাইজ এবং হারে মাছ ধরা পড়ছে সে অনুযায়ী আশ্বিনের শেষ নাগাদ প্রজনন মওসুম শুরু হবে বলে ধারণা সবার। তাঁদের মতে গত বছরের  ন্যায় এবারও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের পরে ডিমওয়ালা মাছ বেশী ধরা পড়বে।
ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের সরবরাহ বেশী হওয়ায় আড়তগুলোও সরগরম। জোয়ার কমার সাথে সাথে12 নদী থেকে বড় বড় টুকরী বোঝাই করে ইলিশ নিয়ে ফিরছে জেলেরা। বড় সাইজের ইলিশের দামও বেশ। এখানে প্রতিপন (৮০পিজ) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। ঝাটকার পন বিক্রি হয় ৫/৬ হাজার টাকায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে ঝাটকার সরবরাহ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি আড়তে ঝাটকা নামার সাথে সাথে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তুলনামুলক বড় সাইজের ইলিশ দিয়ে সেগুলো ঢেকে দিতে দেখা যায়।
ইলিশের সাইজ এবং প্রজনন মওসুমের সময় নির্ধারণ বিষয়ে জেলেদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে চাঁদপুর¯’ বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনিষ্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান বলেন, আগামি পূর্ণিমার সময় (২৫ সেপ্টেম্বর থেকে) আশাকরা যায় মা ইলিশ ডিম ছাড়বে। তাঁর মতে, গত ক’ বছর ধরে সরকার নানান কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে মা ইলিশ রক্ষা করতে সচেষ্ট ছিলো। পাশাপাশি নদীতে মা ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে, বিভিন্ন সময় ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে বেশী। যার ফলে ছোট ইলিশের দেখা মিলছে। এটি অস্বাভাবিক নয়, বরং শুভলক্ষণ এবং সারাবছর কম বেশী মাছ পাওয়া যাবে।
প্রজনন মওসুমের সময় পিছিয়ে দেওয়া সম্পর্কিত জেলেদের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে; বিপুল সংখ্যক জেলেদের মতামতের ভিত্তিতেরই এবার প্রজনন মওসুম এগিয়ে এনে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ০৫ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি এসময়ে কোন বড় ধরণের তারতম্য ঘটে তাহলে পরবর্তী সময়ে এনিয়ে গবেষণা কিংবা আলোচনা করা যেতে পারে।
13
কৃষি ও অর্থনীতি