পথ হোক আরো দীর্ঘ
-হাবীব ইমন_
রুদ্র মাসুদ। আমেরিকা প্রবাসী হলেও একজন ঘনিষ্ট প্রিয়। সাম্প্রতিক একটি বিষয়ে তার প্রতি ক্ষুব্ধতা ও অভিমান রয়েছে। সোজা-সাপটা কথা আমার। তাতে ঘুরানো-প্যাচানো কোনো কথা নেই। যেই রুদ্র মাসুদ ভাইকে চিনতাম, কোনো একটি মসনদে বসার পর তিনি ওইটার ভারে ছদ্মবেশি হয়ে গেলেন। তাকে ঠিক ওই মাসুদ ভাই হিসেবে চিনতে পারি নি। ওই রুদ্র ভাইকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায় না। এ সত্যটা যে তার বেলায় কেবল প্রযোজ্য তা নয়, আমার বেলায় নির্মোহ এটি।
11বিদগ্ধ, অথচ রুদ্র ভাইর প্রখর তারুণ্য সবসময় প্রাণবন্ত, উদ্দীপ্ত ছিল। একজন সংবাদ-সহকর্মী হিসেবে যতোটা তাকে দেখেছি, তারচেয়ে ভিন্নভাবে তার তারুণ্যকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমরা যারা তার সান্নিধ্য পাচ্ছি, ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন একসময়। কবে কখন পরিচয় হয় এ মানুষটির সঙ্গে, স্মৃতির চোখে ছানি পড়ার মতো আজ। সম্ভবত কোনো আড্ডার ভেতরে পরিচয় হয়েছিল। কিংবা ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টারের প্রশিক্ষণে। অনেক দিন বহু বিকেল-সন্ধ্যা চৌমুহনীর তার অফিস, অথবা নোয়াখালী পৌরসভা সংলগ্ন মাইজ্জা মিয়ার দোকানে আড্ডা দিয়েছি। পরবর্তীতে সেই আড্ডা গড়াতে পারতো নোয়াখালী প্রেসক্লাবের চলমান নোয়াখালী অফিসে। এইসব আড্ডার ভেতর দিয়ে তার মানবিক-প্রগতির সচেতন ভাবনা, উৎকর্ষময় চিন্তার মানসিকতা এবং সেই সাথে চলমান নোয়াখালীকে ঘিরে তার প্রথম অগ্নিগর্ভ থেকে সন্তান গড়ে তোলার পরিকল্পনার একজন আমিও ছিলাম। কাউকে কাউকে কালের স্রোতে এখন সহকর্মীদের প্রতি অস্পষ্টভাবে ‘মৌসুমী মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করাটা আপত্তিকর। মন ভুলানো কথা এটা নয়, এ চলমান নোয়াখালীর প্রারম্ভিক সময়ে অনেক কলমসৈনিক ছিল। অনেকের নাম আমি নিতে পারি। মিরণ মহিউদ্দিন, আবু নাছের মঞ্জু, জামাল হোসেন বিষাদ, মিজানুর রহমানসহ আরো অনেকে সেসময় ছিল। তবুও এসব অস্বীকারে মধ্যে জ্বলন্ত পারদে ঘষায় ক্রমশঃ তিনি হয়ে উঠুক একজন সুদর্শন স্বাপ্নিক সাংবাদিক, সম্পাদক।
আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রগুলি একচেটিয়া মালিকানা, রাজনৈতিক দল ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। তা সত্ত্বেও এ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রুদ্র ভাই ২০০৩ সালের শুরুতেই চলমান নোয়াখালী নামে একটি সাপ্তাহিক প্রকাশে উদ্যোগী হন। পত্রিকার আঙ্গিক, বিষয়, চরিত্র, ভাষা, শব্দচয়ন নিয়ে বিভিন্নজনের সাথে মতবিনিময় করেন। ঐ বছর ৩০ এপ্রিল চলমান নোয়াখালী’র যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে তিনি অনেক-কে সাথে নিয়ে পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। এটা রূঢ় সত্য হলেও বাস্তবতা এটি তিনি একাই এ পত্রিকাটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
২০০৮ সালের দিকে বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রবাসী পাঠকদের সুবিধার্থে অনলাইনে নিয়ে আসেন চলমান নোয়াখালী-কে। একটি আঞ্চলিক প্রকাশনার জন্য এ উদ্যোগ দুঃসাহসিক কাজ। চলমান নোয়াখালীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমার সম্পৃক্ত আনুষ্ঠানিক নয়, একেবারেই অনানুষ্ঠানিক। এটাও সত্য, এ অঞ্চলের সাথেও ব্যক্তিগতভাবে আমার সম্পৃক্ত আপাত আনুষ্ঠানিকই। চলমান নোয়াখালী-র সাথে সম্পর্কটা আত্মিক হয়ে উঠেছিল মনে করতাম। আস্তে আস্তে পরামর্শদাতার মতো হয়ে উঠেছিল। আবার মাঝে মাঝে সরাসরি একজন লেখক হয়ে গেলাম এ পত্রিকায়। ওই-সময়ে আমার সাথে এর সম্পর্ক অনানুষ্ঠানিক হলেও সম্পাদকসহ পুরো পরিবারের প্রতি রয়েছে প্রবল ভালোবাসা। এ যোগসূত্র কিংবা ভালোবাসার আদান-প্রদান তা এখনও অফুরান নয়। এবং আগামী দিনেও এটি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু দুঃখজনক এটি মাঝে মাঝে সম্পাদকও ভুলে যান এ চলমান নোয়াখালীর সাথে সম্পর্কটা কতটুকু নিবিঢ় এবং নিস্বার্থ ছিল। তার লেখায় সেটি প্রকাশিত হয় না।  
চলমান নোয়াখালী রুদ্র ভাই-ও উন্নত রুচি ও আভিজাত্য’র প্রকাশ। তার চিন্তা-আধুনিক ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে চলমান নোয়াখালী-তে। নোয়াখালীর গণমানুষের আশা-আকাঙ্খা, ব্যথা-বেদনা, সুখ-দুঃখ এই পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়ে আসছে। একটি সাংস্কৃতিক চিন্তা-চেতনা-ধ্যান-ধারণার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন এ পত্রিকাটিকে। একটি পত্রিকা প্রকাশ করা আনন্দ’র যেমন আছে, ঠিক আছে বেদনা, হতাশা, গ্লানিও। আমাদের সহযোগিতার কার্পণ্যতা ও সীমাবদ্ধতার ভেতরেও সহাস্যে কী দক্ষতার সাথেই না চলমান নোয়াখালী সম্পাদনা করে চলেছেন। তিনি তার সমস্ত মেধা, ভাবনা, মনন এবং ভালোবাসা দিয়ে সচেষ্ট এ চলমান নোয়াখালী-কে ঘিরে। পত্রিকার শৈল্পিক বিন্যাস, বিষয়, চরিত্র, সংবাদ নির্মাণে বৈচিত্র্য-নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন জাতীয় দিবস কিংবা ইস্যুগুলোতে তরুণদের ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে একাধিক লেখা প্রকাশ করেছেন। অন্যান্য প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে এ দিকটি রুদ্র ভাই ও চলমান নোয়াখালীর তারুণপ্রাণের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এইভাবে তরুণদের সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয় অন্যান্য গণমাধ্যম খুব একটা ভেবেছে মনে হয় না। তবে মুহম্মদ আবুল হাসেম সম্পাদিত অর্ধ সাপ্তাহিক অবয়ব এ জেলায় তারুণ্য সাংবাদিকতায় নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন এটা আমি জানি। অপ্রিয় সত্য হলেও আমার কাছে মনে হয় অবয়ব এর ওই অবস্থান এখনও কোনো পত্রিকা নিতে পারে নি। এছাড়া সাপ্তাহিক উপকূল বার্তা-র কথাও মনে করতে হবে। মনজুর হাছান লিটন, (অ্যাডভোকেট) শামছুল হক অনেক তরুণ সেই সময়ে এ পত্রিকায় কাজ করতেন। সাপ্তাহিক আজকের উপমা-র কথা আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে। অনেকটা হারিয়ে যাওয়া মুহম্মদ আবুল হাসেম, মোজাম্মেল হোসেন মিরণ (নামটি হয়তো ভুল হতে পারে), পলাশ চৌধুরীকে স্মরণ করতে হবে। পাশাপাশি এ উপকূলীয় অঞ্চলে তরুণ সংবাদকর্মী নির্মাণে ম্যাস্-লাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি)-র অবদানকে আমাদের স্মরণ করতে হবে। নির্দিষ্ট কৌশলের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করলে তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানবিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে চলমান নোয়াখালী যুগান্তকারী ফল বয়ে আনতে সক্ষম।
উন্নয়ন মানুষকে ঘিরে, মানুষের দ্বারা এবং মানুষের জন্য। উন্নয়ন মানেই ইতিবাচক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন প্রথমেই আসে চিন্তা ও চেতনার ক্ষেত্রে। তারপর বাস্তবে। একটি সচেতন পত্রিকা চিন্তা ও চেতনার উৎকর্ষ সাধনে বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় চলমান নোয়াখালীর চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে। সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হয়েছে। এটি যেমন সাহসী পদক্ষেপ, তার জন্য প্রশংসার দাবিদার রুদ্র মাসুদের। তার দৃঢ়চেতা। এ অনলাইনে অবশ্য আপডেট নিয়মিত নয়। এছাড়া চলমান নোয়াখালীর মুদ্রিত কপিতে আগের মতো সেই তেজ পাওয়া যায় না। একটা দায়সারা অনুভব। কেবলমাত্র পত্রিকাটিকে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা এখন বিদ্যমান। চলমান নোয়াখালী দেড় দশকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ এগিয়ে যাওয়া একদিকে অনগ্রসর অঞ্চলে একটি গণমাধ্যম হিসেবে গৌরবের। পাশাপাশি এটাও বিবেচনা নেয়া প্রয়োজন আমেরিকায় অবস্থান করে সম্পাদক রুদ্র মাসুদের নিষ্ঠা ও লক্ষ্য অর্জনে কতটুকু সমর্থ হয়েছেন। আগামী দিনে এর অগ্রসরতায় বিগত সময়ের বিশ্লেষণও জরুরি। এটাও মেনে নিতে হবে তার অবর্তমানে সুমন ভৌমিক নিরলসভাবে  কাগজটি বের করছেন।
আমাদের নোয়াখালী থেকে অনেক দিন থেকেই ভালো মানের সংবাদপত্রের অভাব। চলমান নোয়াখালীতে পৃষ্টা কাঠামোতে প্রথাগত বাইরে কিছুটা পরিবর্তন ছিল। দেড় দশকে এসে আশানুরূপ সংবাদ, সম্পাদকীয়, পৃষ্টা সজ্জার নানন্দিকতায় বড় অভাব এখানে পাচ্ছি। কিছু প্রত্যাশা ছিল এ পত্রিকাটি ঘিরে, অনেকটা এখনও স্বপ্œের ভেতর রয়ে গেছে। সম্পাদক রুদ্র মাসুদ তার অভিজ্ঞতার ভেতরে প্রথম দিক থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন চলমান নোয়াখালীকে এ অঞ্চলের নিয়মিত এবং একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমে পরিণত করতে। হয়তো হঠাৎ আমেরিকাগামী হওয়ায় কিছুটা শ্লথ হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি পুরোপুরি সফল হতে পারেন নি, এটা দ্বিধাহীন ভাবে বলতে পারি। একেবারে প্রশংসার পাল্লাটা ভারি হলে কথাটা অতিরঞ্জক ও তৈলমর্দন মনে হবে। সেখানে আর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা থাকে না। হয়তো এই কারণে একটি টিম ওয়ার্ক তৈরি করা যায় নি এসময়ে। দেড় দশকে তিনি তা পেরেছেন, এটি বলাটা হবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওজর। শুধু সমালোচনা নয়, এ বাস্তবতাও ছিল, তার অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। এ সীমাবদ্ধতার মধ্যে অর্থনৈতিক পৃষ্টপোষকতার অভাব। জনবলের অভার। সাংগঠনিক কাজে কয়েকটি জেলায় সফরে দেখলাম এ সীমাবদ্ধতার চিত্র সব মফস্বলে প্রায় একই। বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার অভিজ্ঞতায় আমাদের শিল্পোদ্যাক্তাদের এ অঞ্চলের সংবাদপত্র নিয়ে আগ্রহ একেবারে কম। তারা আন্তরিকভাবে চাইলে এ নোয়াখালী থেকে একটি উন্নতমানের দৈনিক প্রকাশ করা অসম্ভব কিছু নয়। যেটি অন্যান্য অঞ্চলে কিছুটা নয় শুধু, শক্তিশালীভাবে দৃশ্যমান। মাঝে মাঝে অবাক হই, ব্যথিত হই আমার এলাকায় ভালো-উন্নত মানের প্রকাশনা নেই। তিনি অনেক ক্ষেত্রে এসব সীমাবদ্ধতা উতরাতে পেরেছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে পারেননি। রুদ্র মাসুদ চলমান নোয়াখালী দিয়ে কী চেয়েছিলেন, এ প্রশ্ন রয়েছে। কেননা তার দিক থেকে এটি পরিস্কার ছিল না। ব্যক্তিগত আলাপে তিনি চেয়েছিলেন অনেক বেশি সংগঠিত, মুক্ত, বিকাশমান ও দৃঢ় গণম্াধ্যম। গণতন্ত্র যত বিকশিত হবে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও তত বাড়বে। তার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক এ গণমাধ্যমের ওপর বিভিন্ন মহলের নানাভাবে চাপ তৈরি রয়েছে। গণতন্ত্র যেখানে দুর্বল, সেখানে স্বাধীন সংবাদপত্র থাকতে পারে না। চলমান নোয়াখালী এ সমস্যাটিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিক্রম করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। অপেশাদারদের প্রতিযোগিতায় পেশাদার সাংবাদিকরা এখন অসহায়। তা কমে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়েছে প্রকৃত ঘটনার আসল সত্যকে পুরোপুরি তোলা কখনো কখনো আড়স্টতা থাকে। এতোক্ষণ চলমান নোয়াখালীর অনেক সমালোচনা করেছি। আমি মনে করি এ সমালোচনাটি চলমান নোয়াখালীর জন্য আগামী দিনে শক্তি কিংবা নতুন দিনে স্বপ্ন সঞ্চার করবে।
১৮৬১ সালে নোয়াখালী থেকে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হলেও সাপ্তাহিক পূর্ববঙ্গবাসী নামে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় ১৮৮৪-৮৫ সালে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে আ ম ম আনোয়ারের সম্পাদনায় স্বাধীন বাংলা নামে একটি মাত্র দৈনিকের যাত্রা শুরু হলেও এখন নোয়াখালীতে অনেকগুলো দৈনিক প্রকাশিত হচ্ছে। প্রিয় নোয়াখালী থেকে মানসম্মত এবং দলীয় লেজুড়বৃত্তি ছাড়া একটি সার্বজনীন দৈনিকের স্বপ্ন আমাদের। আনন্দের এবং প্রখ্যাতি প্রকাশ গর্বের ব্যাপার, তা হল চলমান নোয়াখালী এখন থেকে সেই অভাব মেটাতে এগিয়ে যাবে তার ধারাবাহিক নিরন্তর প্রচেষ্টায়। তার বিগত সময়ের অভিজ্ঞতায় দৈনিক চলমান নোয়াখালী গণমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা স্বীকার করে চলতে সক্ষম হবে, এইরকম সহজ বিশ্বাস আমার আছে। রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, গোষ্ঠীগত ও ধর্ম নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের ভাগ্যান্নয়নে তথা বৃহত্তর নোয়াখালীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এ পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি হয়ে উঠবে এ প্রত্যাশা রয়েছে। আশাকরি ধনিক শ্রেণীর নয়, অধিকারবঞ্চিত শোষিত মানুষের কন্ঠস্বর হয়ে উঠবে চলমান নোয়াখালী।
অভিনন্দন চলমান নোয়াখালী। পথ হোক আরো দীর্ঘ।
লেখক: কবি ও কলামিস্ট