সড়কে ফেলে রাখা মুরগির বিষাক্ত বর্জের দুর্গন্ধে অতিষ্ট স্থানীয়রা
11
নিজস্ব প্রতিনিধি
সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বেড়ির উপর ফেলে রাখা প্রভিটা হ্যাচারির মুরগির বিষাক্ত বর্জের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পথচারি, শিশু শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী মসজিদে আসা মুসল্লি, আশপাশের দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫-২০ দিন ওই বেড়ির এক কিলোমিটার জুড়ে কয়েকটি স্থানে কয়েক’শ রেকসিনের বস্তায় এসব বিষাক্ত বর্জ ফেলে রাখা হয়েছে। অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) তাজুল ইসলামই এগুলো এভাবে রেখেছে বলে জানা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, কিছুদিন পর পরই এভাবে সড়কের উপর বস্তাবন্দি অবস্থায় বিষাক্ত বর্জ ফেলে রাখে প্রভিটা ও তাদের লোকজন। প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা এসব বিষয়ে কিছুই বলতে পারছে না।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, মমিনার দোকান-চাপরাশিরহাট সড়কে (ওয়াপদার বেড়ি) প্রভিটা হ্যাচারির উত্তর-দক্ষিণ অংশে অন্তত ৫-৬টি স্থানে কয়েক’শ রেকসিনের বস্তা পড়ে রয়েছে। প্রত্যেক বস্তায় রয়েছে মুরগির বিষাক্ত বর্জ। বস্তা ছিড়ে বিষাক্ত বর্জগুলো চারদিকে ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। এসব বর্জের দুর্গন্ধ অন্তত ২ বর্গোকিলোটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সড়কের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পথচারি নাকে কাপড় দিয়ে হাটতে হচ্ছে। ফেলে রাখা বর্জের বস্তার আশপাশের কয়েকটি দোকানে বসা মানুষগুলোও নাকে কাপড় দিয়েই বসে রয়েছে।
দোকানিরা জানান, ফেলে রাখা বর্জের দুর্গন্ধে দোকানে গ্রাহকও বসছেন না। পাশের ২৩ নং স্লুইজ গেইট এলাকার মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরা অতিষ্ট হয়ে গেছে দুর্গন্ধে।
পাশ্ববর্তী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্রী ময়মুনা বলেন, প্রত্যেক দিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় নাকে কাপড় দিয়ে হাটতে হয়। নাক থেকে কাপড় সরিয়ে ফেললেই বমি হয়। তার অনেক সহপাঠি প্রথম প্রথম এখান দিয়ে হাটতে গিয়ে রাস্তায় বমিও করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানি বলেন, অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাজুল ইসলাম প্রভিটা থেকে এসব বর্জ আনেন। তিনি গত ১৫-২০ দিন পূর্বে এভাবে রাস্তায় এগুলো ফেলে রাখেন। বৃষ্টির কারণে বস্তায় রাখা বর্জগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। আশপাশের পুকুরে, খালে ও জমিতে বর্জ মিশ্রিত হওয়ায় পানিগুলোও বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। ঘরে বসে খাওয়া-দাওয়া করাও মুসকিল হয়ে পড়েছে। বর্জগুলো মেম্বারের হওয়ায় তাঁকে কেউ কিছুই বলছে না।
জানতে চাইলে সড়কের উপর ফেলে রাখা বর্জগুলো তাঁর বলে স্বীকার করেন ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মৎস্য প্রজেক্টের জন্য প্রভিটা থেকে এগুলো কিনেছেন। দ্রুত এগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলবেন বলেও আশ্বাস দেন ইউপি সদস্য।
একাধিক বাসিন্দা বলেন, শুধু এগুলো নয়। এভাবে প্রায় সময় সোনাপুর-কবিরহাট সড়ক ও সংযুক্ত মমিনার দোকান-চাপরাশিরহাট সড়কে (বেড়ি) বর্জের বস্তা ফেলে রাখা হয়। কিন্তু প্রভিটা বড় কোম্পানী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুই বলছে না। এ বিষয়ে প্রভিটা হ্যাচারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।
দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, সড়কে এভাবে বর্জ ফেলে রাখার কোনো সুযোগ নেয়। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।