সুবর্ণচরে নলকূপে গ্যাস, আগুন জ্বলছে
13
বিশেষ প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের কেরামতপুর গ্রামে আবুল মাঝির বাড়ির একটি নলকূপে পানির বদলে গ্যাস বের হচ্ছে। ওই বাড়ির জামাল উদ্দিনের স্থাপিত নলকূপ থেকে এভাবে গ্যাস বের হওয়ার কথা জানা হলে প্রতিদিন শতশত মানুষ এ দৃশ্য দেখতে ভীড় করেন। গত এক মাস ধরে নলকূপটি থেকে গ্যাস বের হচ্ছে বলে দাবী করেন জামাল উদ্দিন। নলকূপের মাথায় দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন দিলে তা ধাও ধাও করে জ্বলে উঠছে।
নলকূপের মালিক জামাল উদ্দিন জানান, প্রায় মাস খানের পূর্বে আমন ধানে পানি সেচ দেওয়ার জন্য চার ইঞ্চি ব্যাসের ৪২০ ফুট পাইপ পুঁতে একটি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করেন। ওই স্থান থেকে দুইদিন পানি সেচ দেওয়ার পর হঠাৎ পানি উঠা বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নলকূপের মেস্ত্রীকে জানালে তিনি বলেন এক-দুইদিন ভালোভাবে চাপলে পানি উঠবে। কিন্তু পানি না ওঠে পাইপের পাশের জমানো পানিতে শুধু বুদ বুদ শব্দ আসতে থাকে। পরে বিষয়টি পুনরায় মেস্ত্রীকে জানালে তিনি এসে বেশ চেষ্টা করেও আর পানি উত্তোলণ করতে পারেননি। উল্টো বুদ বুদের শব্দ ও প্রেসার বেড়ে যায়। এ সময় গ্যাস বের হওয়ার শব্দ বাড়তে থাকে। এমন কি এক ধরণের আভা চোখে পড়ে তাদের। বিষয়টি মেস্ত্রী ও জামাল উদ্দিন টের করতে পেরে দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন দিলে মুহুর্তের মধ্যেই তা জ্বলতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পাঠের বস্তা দিয়ে ওই আগুন নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরে রেকসিন ও পাঠের বস্তা দিয়ে কলের মুখ বেঁধে রাখে। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পরেই বস্তাগুলো উপরের দিকে উঠতে থাকে। তাই এখন তিনি কিছুক্ষণ পর পর বস্তা খুলে দেয় আবার তা লাগিয়ে রাখে।
তিনি আরো জানান, এখানে গ্যাস রয়েছে এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করায় ঘটনার বিষয়ে কাউকে তাৎক্ষণিক জানানো হয়নি। কিন্তু তিনি না বললেও বাড়ির অন্য লোকজন বিষয়টি ছড়িয়ে ফেলে। এভাবে এক দুই কান হতে হতে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এ খবর। এক পর্যায়ে প্রতিদিন ঘটনা দেখতে শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভীড় জমায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করান।  
সরেজমিনে গেলে দেখা যায় জামাল উদ্দিনের বাড়িতে বেশ মানুষের ভীড়। সকলেই বলে বেড়াছে নলকূপে গ্যাস। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় নলকূপের মুখে আগুন জ্বলছে। আর এ দৃশ্য চারপাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন উৎসুক জনতা। ওই বাড়ির এক সদস্য জানান, রাতে নলকূপের মুখে আগুন দিলে পুরো বাড়ি দিনের মতো আলোকিত হয়ে যায়।
জানতে চাইলে চরক্লার্ক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাশার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেবলেন, গত এক মাস ধরে নলকূপটির মুখ থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। যা দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন দিলে জ্বলতে থাকে। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু ওয়াদুদ বলেন, নলকূপের মুখ দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে এখনও সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারেননি। সরেজমিন পরিদর্শন করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করবেন বলে জানান তিনি।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্টিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. সোলাইমান বলেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে শুনেছেন। এ বিষয়ে দুইজন প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।