নির্বাচনকে ঘিরে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা
13
বিশেষ প্রতিনিধি-
আগামি বছর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। আর এই প্রচারণা জমিয়ে তুলেছেন দলীয় মনোনয়ন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। প্রচরাণার মূল বক্তব্য- জেলার প্রত্যন্ত  গ্রাম গঞ্জের হাট বাজারে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড চিত্র তুলে ধরে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া। দল যাকেই নৌকা প্রতীক দিবে তার পক্ষে ভোট করার জন্য সভা সমাবেশ এমনকি উঠান বৈঠকে ভোটারদের বলা হলেও ভিতরে ভিতরে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নানা ধরনের চেস্টা তদবির এখন থেকে শুরু হয়েছে অনেকেই। আর তাই তৃণমুল পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক পথসভা শুরু হয়েছে নোয়াখালীর প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কোন কোন নির্বাচনী এলাকায় রীতিমতো একজনের পেছনে ছুটছেন আরেকজন।
এদিকে সম্প্রতি একটি দৈনিকে আওয়ামী লীগের ১৫২জনের মনোয়ন চুড়ান্ত এমন একটি খবরে দেখা যায় নোয়াখালীর দুইজন এমপিও রয়েছেন। এখবরকে পুুঁজি করে ওই দুই এমপির নির্বাচনী এলাকায় তাদের সমর্থকরা উদ্দিপ্ত হয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এরই মধ্যে গত ২২ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন-’’আমি কারও মুখ দেখে মনোনয়ন দেবো না। যারা এমপি আছে- তারাই যে মনোনয়ন পাবে, এমন না। মনোনয়নের ব্যাপারে আমার নিজস্ব ব্যারোমিটার আছে। ছয় মাস পর পর সমীক্ষা করা হচ্ছে।’’ গণমাধ্যমে দলীয় প্রধানের এই বক্তব্য প্রচারের পর এমপি নন এমন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমর্থকরা চাঙ্গা হয়ে ওঠে।13
অপরদিকে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে এবং খালি মাঠে আওয়ামীলীগকে গোল দিতে দিবে না বিএনপির নীতি নির্ধারনীর এমন ধরনের বক্তব্যে এবং আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ও আগামী নির্বাচন হবে প্রতিন্দ্বীতাপূর্ন এমন আভাস দেয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেছেন। জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠের কোন সুযোগ না দেওয়ার ইঙ্গিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালীর ৬টি সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্যরা বিগত বছরগুলো বেশীর ভাগ সময় বিভিন্ন কারণে ঢাকায় অবস্থান করলেও সম্প্রতি তাদেরকে বেশীর ভাগ সময় এলাকাল অবস্থান করতে দেখা গেছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভা নেত্রী শেখ হাসিনার ও কড়া নির্দেশ এলাকায় যার জনপ্রিয়তা আছে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে  এমন  নির্দেশনা দেয়ার পর অনেকেই এলাকামুখী হতে শুরু করেছে। আগের চেয়ে বেশী আসা যাওয়া শুরু করেছেন।
সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক  সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট উপজেলায় সোন্দলপুরে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপির বাড়ির মাঠে প্রায় ২০ হাজার নারীর উপস্থিতিতে  নারী সমাবেশে বলেছেন, নারী ও তরুণরাই হচ্ছে আগামী নির্বাচনের অন্যতম হাতিয়ার। নারীরা আওয়ামীলীগের শক্তি। শেখ হসিনার উন্নয়নের চাকা সচল রেখেছেন নারীরা। আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নির্ভর করে আছে  ভোটার ও নারী সমাজের সমর্থনের ওপর।  এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিয়ে উন্নয়নয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য আহবান জানান।
13এদিকে বসে নেই অন্যান্য সংসদীয় এলাকার আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে নোয়াখালী চাটখিলের নারীদের নিয়ে প্রায় ২০টি উঠান বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া  চাটখিল-সোনাইমুড়ী উপজেলায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্মকান্ড নিয়ে তৃণমূল আওয়ামীলীগের উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড সভাপতি-সম্পাদকগণ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য সহ মতবিনিময় সভা করেন।
সেনবাগেও একই অবস্থা। বর্তমান সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জামাল উদ্দিন আহম্মেদ এফসিএ ও  আতাউর রহমান ভুইয়া মানিক দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময়,পথসভা করে আগামীতে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। মোরশেদ আলম ও মানিকের নেতৃত্বাধীন কমিটির ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কিছুটা হলেও হোঁচট খান এই দুই নেতা। অপরদিকে ক্লিন ইমেজ এবং স্থানীয় হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ড. জামাল উদ্দিন আহমদ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকটা নিরবে। তুলে ধরছেন গত ৮ বছর ধরে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড।
বেগমগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদ ও বর্তমান সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণের মধ্যে প্রচারণা ও গণসংযোগে রীতিমতো প্রতিযোগীতা চলছে। জাবেদের পক্ষে ইউনিয়নে ইউনিয়নে উঠান বৈঠক আর মতবিনিময় সভায় জনসমাগম রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। বেগমগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়নকে আরো বেগবান করতে তিনি নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন। অপরদিকে সংসদ সদস্য হওয়ায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন সাংসদ কিরন। গণসংযোগের পাশাপাশি সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে যোগদানের সুযোগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রচারণার কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। একইসাথে সরকারের উন্নয়ন এবং কর্মসূচীগুলো তুলে ধরছেন। একইভাবে প্রচারণায় রয়েছন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এটিএম এনায়েত উল্যা এবং চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সলও। নিজ নিজ বলয়ে তাঁরাও যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে।
এছাড়া নোয়াখালী সদর সুবর্ণচর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীও চরাঞ্চল এলাকার প্রতিটি গুরুত্বপুর্ন বাজারে এবং ইউনিয়নে জনসভার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দিচ্ছেন।একইসাথে নিয়মিত গণসংযোগতো আছেই।
দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে বর্তমান সংসদ আয়েশা ফেরদৌসও প্রতিটি দলীয় সভা-সমাবেশ ছাড়া সরকারি বেসরকারি সভা সমাবেশ উপস্থিত থেকে আগামীতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষে শেখ হাসিনার লক্ষ্যে  নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন।
12